ঢাকাশুক্রবার , ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচনের মাঠে নৌকা বনাম স্বতন্ত্র (ডামি) প্রার্থীরা মুখোমুখি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ২২, ২০২৩ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এখনো সাইড লাইনে রয়েছেন ২৬ আসনের সমঝোতা করা জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ ও ১৪ দলীয় জোটে ‘নৌকা’ প্রার্থীরা
বিএনপিসহ অনেকগুলো দল নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, তাদের অনুগত ১৪ দলীয় জোট, বাধ্যগত জাতীয় পার্টি, সুবিধাভোগী কিছু দলের নেতা এবং আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থীরা। জাতীয় পার্টি, ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল এবং সুবিধাভোগী দলগুলোর প্রার্থীরা কার্যত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরশীল। তাদের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা এবং ক্যারিশমা নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী এবং ডামি প্রার্থী হিসেবে পরিচিত স্বাতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এরই মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছে। নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ২৬ আসনের সমঝোতা করা লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও ১৪ দলীয় জোটের নৌকার ৭ প্রার্থী এখনো নির্বাচনের মাঠে সাইড লাইনে রয়ে গেছেন।

নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে লড়তে মাঠে নেমেছেন মোট ১৮৯৬ প্রার্থী। এর মধ্যে প্রায় ১৪শ’ থেকে সাড়ে ১৪শ’ প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থী, আওয়ামী লীগ নেতা ডামি তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী অথবা আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত দলের প্রার্থী। তারপরও নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করছেন, সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। গতকাল ফের চট্টগ্রামে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক হুইপ শামসুল হকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। তিন দিনে ৭ বার হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। এর আগে বুধবার অন্তত ৬ জেলায় সংঘর্ষ হয়। শুধু চট্টগ্রামে নয় সারাদেশে নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা ডামি (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে; সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই সংঘাত নিয়ে আওয়ামী লীগ তেমন চিন্তিত নয় বলেই দলটির নেতারা জানিয়েছেন। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনে ছোট-খাট সংঘাত হতেই পারে। তবে এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন থেকে পাঁচ জেলার নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা ভোট নিয়ে যেন কোনো সংঘাত না হয় সে দিকে নজর রাখতে সারাদেশের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেন। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। ভোটে নৌকা, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলও আছে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই নির্বাচিত হবে। কেউ কারও অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। নির্বাচনে কোনো সংঘর্ষ-মারামারি দেখতে চাই না। দলের কেউ সংঘাত করলে তার রেহাই নেই, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে না পারলে বাংলাদেশ শেষ হয়ে যাবে।

তবে ওই সংঘাতের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, যে ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ হচ্ছে, এ যে হতেই পারে এমন দলের অনেকেই আশঙ্কা করেছিল। কিন্তু দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার ফলে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হচ্ছে। কারণ যে সব জায়গায় সংঘাত হচ্ছে তা আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে দলের অন্য পক্ষের। নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়ে এমন অবস্থা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের সময় এসব বিষয়ে সকল পক্ষকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার অন্তত ছয় জেলায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়, হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হন আরো বেশ কয়েকজন। গত মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক শামীমের ট্রাক প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের পটিয়ায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর গণসংযোগে হামলা, রাজশাহীর দূর্গাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয় নৌকার কর্মীরা। এ দিকে ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণসহ দুটি ক্যাম্প ভাঙচুর ও একটি ক্যাম্প তালা মেরে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পৃথক সময়ে রাজবাড়ী, সাভারে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়। গত বুধবার চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে চট্টগ্রামের পটিয়ায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর গণসংযোগে হামলা হয়। সামশুলের পক্ষের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, অতর্কিতে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৮টি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি কুপিয়ে গাড়ির চাকা পাংচার করে দেওয়া হয়। এসময় প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তারা এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারী নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন। বাঁশখালীতেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর প্রচারে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সমর্থকদের হামলার ঘটনাও ঘটে।

গত মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক শামীমের ট্রাক প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। রাজশাহী-৫ আসনে দূর্গাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয় নৌকার কর্মীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমানের ব্যানার টাঙ্গাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তার সমর্থক আব্দুর রাজ্জাক। তিনিও নিজেও যুবলীগ নেতা। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী-৬ আসনের (চারঘাট বাঘা) স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হকের নির্বাচনী অফিস ও মাইক ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হতে রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের ঈগল প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণসহ দু’টি ক্যাম্প ভাঙচুর ও একটি ক্যাম্প তালা মেরে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। মামুদপুরে হামলা করে আহত করা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই কর্মীকে। শহরের আলীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা চালানোর সময় তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রচারণায় বাধা দেয়া হয়েছে। বিভিন্নস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো নির্বাচনী মিছিল বা প্রচারণা বের হলে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাদের আশপাশে মহড়া দিচ্ছে হেলমেট পরিহিতরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হকের লোকেরা এসব ঘটনার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঢাকা-১৯ আসন সাভারে গত মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার তালবাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ডা. এনানুর রহমানের নির্বাচনী অফিসের সামনে নৌকার প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে অন্য দলের কাজ করছেন এমন অভিযোগে এক মহিলা লীগ নেত্রীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। গত বুধবার রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হকের প্রচারে বাধা দেয়ায় জাকির হোসেন হিরু নামে এক ইউপি সদস্যকে আটক করে পুলিশ।

গত সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে গজারিয়ায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়। উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের নতুন চরচাষী এলাকার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফয়সাল বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র। তিনি নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচন করেছিলেন। সংসদ নির্বাচনের জন্য মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফয়সাল বিপ্লব। তার বাবা মো. মহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আহত গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মো. মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আজ বিকেল ৩ টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল বিপ্লবের প্রতীক পাওয়াকে কেন্দ্র করে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সেই সময় হঠাৎ নৌকার সমর্থক গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী খোকনের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ইনকিলাবকে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন ছোট-খাট সংঘাত হয়েই থাকে। তবে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এ ধরনের সংঘাত হওয়ার কথা নয়। প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। তবে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা উচিত।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের নিয়মিত বিফ্রিংয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশে উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলছে বলে দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় বিপুল জনসাধারণের উপস্থিতি প্রমাণ করে ৭ জানুয়ারী জনতার জয় হবে। আমরা নির্বাচনমুখী তৎপরতায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছি উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় টুকটাক সমস্যা হচ্ছে, তবে মেজর কোনো সমস্যা নাই।’

এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বুরে‌্য জানিয়েছে, তিনদিনে ৭ বার হামলার শিকার হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ শামশুল হক। আর সাতকানিয়ায় মোতালেবের সমর্থকের বাড়িতে গুলিবর্ষণ করা হয়। জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১১ টিতে নৌকার সমর্থকদের মুখোমুখি মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। ভোটের প্রচার যতই বাড়ছে ততই দুই পক্ষের মধ্যে কলহ বিরোধ বাড়ছে। ফলে বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মুখে একরতফা এই নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত, সহিংসতার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের এক সমর্থক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর হয়েছে বেশ কিছু গাড়ি ও নির্বাচনী ক্যাম্প। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনেই প্রচার শুরুর দিন থেকে তিন দিনে সাত স্থানে নিজের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নৌকার প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন হুইপ।

সামশুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিন থেকে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা আমার ঈগল প্রতীকের প্রচারণায় বাধা দিয়ে আসছেন। গত সোমবার পটিয়ার হল ওকে নামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার অফিস উদ্বোধন, সংবাদ সম্মেলন ও কর্মী সমাবেশ ছিল। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ইন্দ্রপুল, হাবিলাসদ্বীপের পাঁচুরিয়া এলাকায় ওই রাতে ফকিরা মসজিদ বাজারে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর এবং কয়েকজন কর্মী আহত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শান্তিরহাট, কুসুমপুরা এলাকায় ক্যাম্প ভাঙচুর, বাকখাইন এলাকায় প্রচার গাড়ি ভাঙচুর, ওই রাতে মেহেরআটিতে এক সমর্থককে মারধর এবং সবশেষ বুধবার কাশিয়াইশে গণসংযোগে হামলা করে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। হুইপ বলেন, বিগত দিনে যাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- করতে দেয়া হয়নি, কিংবা যারা সুযোগ পাননি, তারাই মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে গিয়ে ঈগল প্রতীকের প্রচারে বাধা দিচ্ছেন।

তবে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাশ সাংবাদিকদের বলেন, বিগত ১৫ বছর সামশুল হক চৌধুরী পটিয়ার এমপি ছিলেন। এ সময়ে তিনি আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে সামশুল হক লীগ তৈরি করেছিলেন। তার নেতৃত্বে পটিয়ার শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ইয়াবা কারবার, বালুর ব্যবসা করেছেন। এসবের বিরোধীতা করতে গিয়ে দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছিলেন। এখন হুইপ ক্ষমতাহীন হওয়ার পর মূলত হুইপের মামলা-হামলার শিকার ক্ষতিগ্রস্তরাই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ছেন।

সাতকানিয়ায় ফের গুলি : সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেবের সমর্থক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, তিনটি গাড়ি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ইছামতি আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। ওই আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এরপর তাকে বহিষ্কারের দাবিতে এলাকায় মিছিল সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের একাংশ।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র এবং নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরতী এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও তার দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর আগে ১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রিয়াজ উদ্দিনের ইছামতি আলীনগর এলাকায় বাড়ি লক্ষ্য করেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ওই এলাকায়।

জানা যায়, রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আবদুল মোতালেবের সমর্থক পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিদুয়ানুল ইসলামের বাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়েন। গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের সময় পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রিদুয়ানুল ইসলাম। এ ঘটনার জন্য তিনি সংসদ সদস্য নদভীর সমর্থকদের দায়ী করেন। রিদুয়ানুল বলেন, নদভীর সমর্থক রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা একটি মাইক্রোবাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেবের নির্বাচনী কার্যালয়, নির্বাচনী প্রচার কাজে নিয়োজিত একটি অটোরিকশা ও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনি ট্রাক ভাঙচুর করেন। হামলাকারীরা নদভীর পক্ষে সেøাগানও দেন বলে দাবি করেন রিদুয়ানুল। তবে রিয়াজ উদ্দিন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।

মাদারীপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার ও কালকিনি উপজেলা সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপিকা তাহমিনা বেগমের ঈগল প্রতিকের প্রচার মিছিলে বোমা হামলা চালিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর এলাকার হাবু সরদারের মসজিদের সামনের রাস্তায় এঘটনা ঘটে এবং এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী জানায়, লক্ষ্মীপুর এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন গেন্দু কাজীর নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপিকা তাহমিনা বেগমের ঈগল প্রতিকের প্রচার মিছিল বের করে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ড. আবদুস সোবহান গোলাপের নৌকার সমর্থক আরেক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বেপারী লোকজন নিয়ে ওই হামলা চালায়। এতে কাঞ্চন সরদার (৬০), সুহেল মিয়া (৩০), আকলিমা বেগম (৩৫), মালেক হাওলাদার (৬০) সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বেপারী এর আগেও এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে কয়েক হাজার লাঠি নিয়ে মিছিল প্রদর্শন করে। আচরণবিধি ভঙ্গ হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি ফের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও ইউএনও উত্তম কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমি ও থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে চলে এসেছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত। তবে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।