ঢাকামঙ্গলবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুস্থ ও সুষ্ঠু করবে: ওবায়দুল কাদের।

অনলাইন ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৬, ২০২৩ ৭:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণ। সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুস্থ ও সুষ্ঠু করবে।“

মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বক্তৃতার সময় এই মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের ‘বদনাম চায় না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেজন্য আওয়ামী লীগের কেউ যেন কোনোভাবে ভোটের পরিবেশ নষ্ট না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দলের পোলিং এজেন্টদেরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেছেন, “এবারের নির্বাচনটা আমরা খুব ভালোভাবে করতে চাই। নির্বাচন নিয়ে বদনাম নিতে চাই না। শেখ হাসিনা একটা সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন সত্যিকার অর্থে চান। তার ইচ্ছাকে সার্থক করতে হবে। সে ব্যাপারে পোলিং এজেন্টদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।“

বিএনপিসহ অধিকাংশ দল ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। সেবার অর্ধেকের বেশি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান, যা নিয়ে এখনও সমালোচনা সইতে হয় আওয়ামী লীগকে। বিএনপির ভাষায়, সেটা ছিল ‘বিনা ভোটের’ সংসদ।

এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলই অংশ নেয়। কিন্তু আসনে আসনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরার অভিযোগ ওঠে, তাতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে কারণে আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকারকে বিএনপি বলে ‘নিশিরাতের সরকার’।

২০১৪ সালের মতই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। এ পরিস্থিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় এড়াতে মনোনীত প্রার্থীদের বাইরে দলের অন্যদেরওই স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হতে উৎসাহ দিয়েছে আওয়ামী লীগ, তাতে কাজও হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলটি বলে আসছে, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

নির্বাচনি পরিবেশে যারা বিঘ্ন ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্মশালায় সতর্ক করেন কাদের। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীদের কেউ বিধি লঙ্ঘন করলে সেক্ষেত্রে ইসি যদি কারো বিরুদ্ধে ‘যৌক্তিক ব্যবস্থা’ নেয়, তাহলে দলের কিছু করার থাকবে না।

দলের এমপি ও মন্ত্রীদের হুঁশিয়ার করে কাদের বলেন, ” একটা বিষয় দুঃখজনক ও নিন্দনীয় যে দায়িত্বশীল নেতারা দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলেন। এমপি ছিল, মন্ত্রী ছিলেন– এমন লোকেরা এখনো ধমকের সুরে কথা বলেন। এখনো ক্ষমতার দাপট যারা দেখায়, তাদের মুখ বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের উদ্দেশ্যকে আমরা ব্যাহত হতে দিতে পারি না। পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।“

তিনি বলেন, “রোজ পত্রিকা খুললেই দেখি ধমক দিচ্ছে। কারও বাপ দাদার সম্পত্তি নাকি সংসদীয় এলাকা? এলাকা জনগণের,  জনগণকে ভোট দিতে হবে, ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কিছু লোকের কথাবার্তা শুনলে অবাক লাগে। এরা কিসের জনপ্রতিনিধি? যারা বাজে কথা বলে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। “

বিএনপি এলে নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হত

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের বিরোধী দল নির্বাচনের বাইরে থাকুক সেটি কখনোই সরকারের প্রত্যাশা ছিল না। বিএনপি এলে নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হত।

তবে যেসব দল ভোটে এসেছে, তাদের নিয়েই দেশজুড়ে ভোটের ‘উৎসব’ চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কাদের বলেন, “অনেকেই এসেছেন, কিন্তু বিএনপিসহ যারা আসেননি, তারা এলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হত। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত, সেটা আমরা জানি। তারপরও তারা নেই, কিন্তু সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ।”

দেশে নিবন্ধিত ৪৪ দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ ভোটে আছে ২৭টি। অন্যদিকে বিএনপিসহ ১৫টি দল ভোট বর্জন করেছে। ভোট বর্জনের আহ্বানে তারা অসহযোগের ডাক দিয়েছে, চালিয়ে যাচ্ছে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির মধ্যে যানবাহনে নাকশতাও ঘটছে।

বিএনপি নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি মনে করেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপি আন্দোলনে নেমেছিল, তাতে তারা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে।

“বিএনপি মনে করেছিল তারা না থাকলে সারাদেশে লোকজন থাকবে না এবং নির্বাচন উৎসবমুখর হবে না, ভোটার উপস্থিতি শূন্যের কোটায় যাবে। এরকম দুঃস্বপ্ন নিয়ে তারা আন্দোলন করে ব্যর্থ। এখন তারা সরকার কীভাবে ব্যর্থ হবে, ভোটার টার্নওভার কীভাবে কম হবে এবং নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হবে না বলে নানান গল্প বলে যাচ্ছে।”

বিএনপির আন্দোলনে নাশকতার কথা তুলে ধরে কাদের বলেন, “মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায় না, তারা  ভোট বানচাল করতে চায় সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে। এ সন্ত্রাস-সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।“

তিনি বলেন, “নির্বাচন বানচাল করার জন্য সহিংসতার প্রস্তুতি বিরল ঘটনা। বাংলাদেশে এটা হচ্ছে। নেতা নেই, রিমোট কন্ট্রোলে লিডারশিপ।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে কাদের বলেন, “তিনি এখন রাজনীতি করছেন না, রাজনীতিটাকে ধ্বংস করছেন। দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। তার বাবা জিয়াউর রহমান এদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।”

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আমরা হরতাল করেছি, কিন্তু বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটাকে ধ্বংস, বিকৃতি ও ব্যবস্থার উপর আঘাত করেছে। সে কারণে এটা আমরা চাই না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আমরা বাতিল করিনি, এটা করেছে বিচার বিভাগ। কাজেই এ ব্যবস্থা মরে গেছে, জীবিত করার প্রয়োজন নেই।”

চড়া বাজারের দায় সরকার ‘এড়াতে পারে না’

কাদের তার বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতির সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন,  “আমরা খুবই কঠিন সময় অতিক্রম করছি। সারাবিশ্বই সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্ব সংকটের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন আছে।”

ইউক্রেইন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কথা তুলে ধরে কাদের বলেন, “এরকম পরিস্থিতিতে আমরাও সংকটে আছি। দোষটা বড় বড় দেশগুলোর, কিন্তু দায় পড়ছে আমাদের উপর, শাস্তি পাচ্ছি আমরা। দেশে আমাদের গরিবরা সাফার করছে, প্রান্তিক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বাজারে জিনিসপত্রের যে ঊর্ধ্বগতি, সেটা নিয়েও মানুষের দুঃখ কষ্টের আবহ তৈরি হয়েছে।“

তবে ক্ষমতাসীন দল হিসাবে সরকারও যে এর ‘দায় এড়াতে পারে না, সে কথাও বলেন কাদের। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ডলারে সংকট, মুদ্রাস্ফীতি,  জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহনে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে।“

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় ‘সংকটেও নির্বাচন করতে হচ্ছে’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, “কেউ কেউ বলতে পারে এ সংকট পার করে নির্বাচন করা উচিত। অবশ্যই উচিত নয়, কারণ আমাদের সংবিধান আছে, সাংবিধানিক নিয়ম আছে। নির্বাচন দিয়েই সংবিধান রক্ষা করতে হবে। নির্বাচন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন করতে হচ্ছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে।”

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।