ঢাকাবুধবার , ২ সেপ্টেম্বর ২০২০
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সৌদি যুবরাজ সালমানের বিলাসী জীবন !নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২, ২০২০ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনেক বছর ধরে সৌদি রাজপরিবারের তথ্য অনুসন্ধান করেছেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দুই সাংবাদিক ব্র্যাডলি হোপ ও জাস্টিন শেক। গতকাল ১ সেপ্টেম্বর তাদের বই ‘ব্লাড অ্যান্ড অয়েল: মোহাম্মদ বিন সালমান’স রুথলেস কোয়েস্ট ফর গ্লোবাল পাওয়ার’ প্রকাশিত হয়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫০ জন নারী মালদ্বীপের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে পৌঁছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েক ডজন’ পুরুষের সঙ্গে পার্টি করতে সেখানে যান তারা।

সেই পার্টির আয়োজক ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ও এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিদের একজন। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকাতেও রয়েছেন।

তার আয়োজনে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে মালদ্বীপের ‘ভেলা’ নামের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে প্রায় এক মাস ধরে পার্টি চলে। ‘ভেলা’কে বলা হয় ‘বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল’ দ্বীপ।

ওই দ্বীপে প্রায় চার ডজন ব্যক্তিগত বাগানবাড়ি আছে, অনেকগুলো ভারত মহাসাগরের নীল পানির ওপর নির্মিত।

কোয়ার্টারে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ডেক ও সুইমিং পুল আছে। অতিথিদের প্রত্যেকেই নিজস্ব গৃহ পরিচারিকা নিয়ে সেখানে এসেছিলেন।

এমনকি, সেখানে একটি তুষার মেশিনও আনা হয় যাতে করে দর্শনার্থীরা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সৈকতে কৃত্রিম বরফখণ্ড তৈরি করে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন।

ব্র্যাডলি হোপ ও জাস্টিন শেক তাদের ব্লাড অ্যান্ড অয়েল বইয়ে লেখেন, ‘দ্বীপটি একজন যুবরাজের অবকাশ যাপনের জন্য উপযুক্ত।’

এমবিএস হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান পুরো দ্বীপটি ভাড়া নিয়েছিলেন। দ্বীপটি ছিল তার ও তার অতিথিদের দখলে।
বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে খরচ হয় প্রায় পাঁচ কোটি ডলার। সে সময় রিসোর্টের ৩০০ জনেরও বেশি কর্মীর প্রত্যেকে নগদ অর্থের টিপসের বাইরে পাঁচ হাজার ডলার করে বোনাস পেয়েছেন। তারা সাধারণত মাসে এক হাজার ডলার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার আয় করে থাকেন।

এমবিএস ও তার কর্মীরা গোপনীয়তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেজন্য খরচও করেছেন অনেক। এই পার্টিকে সংবাদপত্র থেকে আড়ালে রাখতে মরিয়া ছিলেন সৌদি যুবরাজ।

লেখকরা বইতে লিখেছেন, ‘এমবিএস জানতেন যে সৌদি আরবের তরুণরা শাসক পরিবারের কয়েক দশকের অযাচিত ব্যয়ের জন্য বিরক্ত।’

গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে, দ্বীপে কাউকে স্মার্টফোন আনতে দেওয়া হয়নি। যোগাযোগের জন্য তারা কেবল নোকিয়া ৩৩১০ মডেলের মোবাইল নিতে পেরেছিলেন। এই নিয়ম ভঙ্গ করায় দুই কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।

দ্বীপে কয়েকজন কর্মীর দায়িত্ব ছিল আমন্ত্রিত মডেলদের অভিবাদন জানানো। নৌকাগুলো দ্বীপে পৌঁছানোর আগে, ওই নারীদের একটি মেডিকেল হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তাদের যৌনরোগের পরীক্ষা করা হয়েছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দুই সাংবাদিক আরও জানান, ‘পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নারীরা যখন তাদের বাগানবাড়িতে পৌঁছান, তখন মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার বন্ধুদের বহনকারী সমুদ্র বিমানগুলো আসে।’

বিনোদনের জন্য পিটবুল, গ্যাংনাম স্টাইল গানের জন্য খ্যাত কোরিয়ান র‌্যাপার সাই ও ডিজে আফ্রোজ্যাকসহ বিশ্বজুড়ে বড় বড় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানান এমবিএস।

ওই ব্যক্তিগত দ্বীপের সূত্র অনুযায়ী, জেনিফার লোপেজ ও শাকিরাও সেখানে পারফর্ম করেছেন।

দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমন্ত্রিত অতিথিরা ঘুমিয়ে থাকতেন। সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উত্সব শুরু হতো। তারা পার্টির জন্য প্রস্তুত হতেন।

ডিজে ও ব্যান্ডগুলো একটি পুলের মেঝেতে তৈরি ড্যান্স ফ্লোরে পারফর্ম করতেন।

এক রাতে, আফ্রোজ্যাকের পারফরম্যান্সের সময় এমবিএস এতটাই উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন যে তিনি স্টেজে চলে এসেছিলেন।

বইটিতে বলা হয়েছে, ‘এমবিএস যখন ডিজে টেবিলে যান এবং তার পছন্দসই রেকর্ড বাজাতে শুরু করেন তখন অতিথিরা উৎফুল্ল হন। তবে, আফ্রোজ্যাককে তখন বিড়বিড় করে কিছু বলতে বলতে দূরে সরে যেতে দেখা যায়। তার আওড়ানো বুলি যাতে যুবরাজের কানে না পৌঁছে সে ব্যাপারে সাবধান হন আফ্রোজ্যাক।’ পার্টি প্রায়ই ভোর পর্যন্ত চলতো।
বইতে লেখা হয়েছে, ‘স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মোহাম্মদের হাতে এখনো অনেক বছর আছে। তিনি এখনও বাদশাহ নন। উত্তরাধিকার হিসেবে তিনি ১০, ২০ এমনকি ৩০ বছর পরও ক্ষমতায় আসতে পারেন।’

দৈনিক অপরাজিত বাংলা

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।