ঢাকাশুক্রবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২২
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইটালি ও লিবিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে পাচারের শিকার দুই নারী

অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ৫:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক জাতিসংঘের কমিটি ইউএন সিইডিএডব্লিউতে ইটালি ও লিবিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই নারী অভিবাসী৷ ইটালির একটি আইনি অধিকার সংস্থার সহযোগিতায় করা মামলায় তারা দেশ দুটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থতা, নির্যাতন ও মানবপাচারের ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ এনেছেন৷

প্রিন্সেস ও ডোরিস (ছদ্মনাম) ২০১৭ ও ২০১৮ সালে নাইজেরিয়া থেকে লিবিয়ায় পৌঁছান৷ তাদের দাবি একটি অপরাধচক্র তাদেরকে পতিতাবৃত্তির জন্য নাইজেরিয়া থেকে লিবিয়াতে পাচার করে৷ যাত্রাপথে তারা দাসত্বের শিকার হন, বিক্রি হতে থাকেন এক গ্যাং থেকে আরেক গ্যাংয়ের কাছে৷ এরপর লিবিয়া থেকে শুরু হয় তাদের ইউরোপ যাত্রা৷

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীরা পাচারের শিকার এমন অভিবাসীদের জন্য জুজু নামে একটি বিশেষ আয়োজন করে৷ সেখানে তাদের জানিয়ে দেয়া হয় যদি কেউ পালাতে চেষ্টা করে, যাত্রার টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের সঙ্গে করা আচরণের কথা ফাঁস করে তাহলে তিনি বা তার পরিবার ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বেন৷ এমনকি তাদের জীবন হুমকিতে পড়তে পারে৷ ডোরিস ও প্রিন্সেসও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ গত ১৬ ডিসেম্বর দ্য অ্যাসোসিয়েশন ফর জুরিসডিক্যাল স্টাডিজ অন ইমিগ্রেশন-এএসজিআই এর সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের দুই আইনজীবী এইসব অভিজ্ঞতা এবং ইটালি ও লিবিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন৷ এরিমধ্যে তারা নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক জাতিসংঘের কমিটি ইউএন সিইডিএডব্লিউ এর কাছে এই বিষয়ক অভিযোগ দায়ের করেছেন৷

নাইজেরিয়া থেকে লিবিয়া

ডোরিস এএসজিআইকে জানিয়েছেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে পাচারকারীদের সঙ্গে জড়িত এক নারীর সঙ্গে নাইজেরিয়ায় তার পরিচয় হয়৷ সেসময় তিনি পাচারের বা যৌনপেশায় বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি আঁচ করতে পারেননি৷

২০১৮ সালের আগস্টে ডরিস পাচারকারীদের একটি দলের সঙ্গে নাইজেরিয়া থেকে যাত্রা করেন৷ লিবিয়ার আগাদেজ ও সাবাহতে তাকে বিক্রি করে দেয় তারা৷ সাবাহতে অনানুষ্ঠানিক একটি আটককেন্দ্র পরিচালনাকারী এক ব্যক্তির কাছে তাকে বিক্রি করে দেয়া হয়৷ সেখানে তার উপর চলে অকথ্য নির্যাতন৷ সেখান থেকে আরেকজন নারী তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান৷ এর বিনিময়ে অর্থের জন্য তিনি ডোরিসকে একমাস যৌনকর্মী হতে বাধ্য করেন৷ এরমধ্যে ডোরিস সেখান থেকে পালিয়ে যান৷ লিবিয়ার উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার পথে তাকে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার করে বানি ওয়ালিদে আটক করেন৷

বসবাসের অযোগ্য আটক কেন্দ্র

কিছুদিন যাওয়ার পর বানি ওয়ালিদ থেকে ডোরিসকে এক ব্যক্তি তার বাড়িতে নিয়ে যান এবং বিনা মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করেন৷ এএসজিআই এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী ডোরিস সেখান থেকে আবারো পালিয়ে যান এবং ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেন৷ লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা তাকে পথে আটক করে আরেকটি কেন্দ্রে নিয়ে আসে৷ তার ভাষায় যেটি ছিল ‘অমানবিক আর বসবাসের অযোগ্য এক আটক কেন্দ্র’৷

প্রিন্সেসের গল্পও একই৷ লিবিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করার পরপরই তাদের দলটি একটি সশস্ত্র দলের বাধার মুখে পড়ে, নির্যাতন ও ডাকাতির শিকার হয়৷ পাচারকারী দল তাদেরকে নিয়ে আসে আগাদেজে৷ সেখানে আরেক পাচারকারীর কাছে তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়৷ সেই ব্যক্তি তাকে সাবাহতে নিয়ে আসে৷

প্রিন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরেক নাইজেরিয়ান পাচারকারীর কাছে হাতবদল হন তিনি৷ এই ব্যক্তি তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে৷ সেখানে থেকে উদ্ধার হয়ে তিনি আসেন ত্রিপোলিতে৷ এবার অপহৃত হয়ে টাকা ছাড়া কাজ করতে বাধ্য করানো হয় তাকে৷

পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রিন্সেস সেখান থেকে মুক্তি পেতে সমর্থ্য হন এবং ইটালির উদ্দেশে যাত্রা করেন৷ কিন্তু ডোরিসের মতো তিনিও উপকূলরক্ষীদের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জানজুর আটক কেন্দ্রে বন্দি হন৷ সেখান থেকে এক ব্যক্তি তাকে নিয়ে যান এবং ‘উদ্ধারের জন্য দেয়া অর্থ পরিশোধে জোরপূর্বক যৌনকর্ম চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন’৷

ইটালি ও লিবিয়ার দায়

প্রিন্সেস তিনমাস যৌন নির্যাতনের শিকার হন৷ সেখানে তার মতো ২০০ নারী এমন ‘দাসত্বের’ মধ্যে বসবাস করতেন৷ লিবিয়ার পুলিশ সেই বাড়িতে অভিযান চালানোর পর প্রিন্সেসকে আটক করে আরেকটি বন্দিখানায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে কঠিন কাজে বাধ্য করা, মারধরসহ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নির্যাতন ভোগ করতে হতো তাকে৷

এএসজিআই বলছে এই দুই নারীই লিবিয়ায় গড়ে ওঠা দাসপ্রথা ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন, যা চলছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইটালির অর্থে৷

উত্তর আফ্রিকা থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন থামাতে গত কয়েক বছরে লিবিয়ার সঙ্গে একাধিক চুক্তি করে ইটালি৷ এর অংশ হিসেবে লিবিয়ার কোস্ট গার্ড ও কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ, সরঞ্জামের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে আসছে ইটালি৷ এএসজিআই এর হিসাবে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালে লিবিয়াকে ও আইওএম এর প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে দেয়া ইটালির অর্থের পরিমাণ ছিল এক কোটি ১০ লাখ ইউরো৷

লিবিয়ার ইইউ তহবিল 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে শুরু করে তারা মানবিক সহায়তা বাবদ লিবিয়াকে আট কোটি ৪৩ লাখ ইউরো দেয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে ২০২১ সালে দেয়া হয়েছে ৯০ লাখ ইউরো, যাতে করোনার টিকা ক্রয়, দেশটির স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের জন্য দেয়া অর্থও রয়েছে৷

একই নথিতে ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য থেকে ইইউ ট্রাস্ট ফান্ড ফর আফ্রিকার মাধ্যমে লিবিয়ার জন্য তহবিল বরাদ্দের কথা জানা যায়৷ এর বড় অংশ লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় করা হয়েছে, যাতে তারা ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা অভিবাসীদের নৌকাগুলো সমুদ্রে বা লিবিয়ার সৈকতে যাত্রার আগেই বাধা দিতে পারে৷

ইইউ ট্রাস্ট ফান্ড ফর আফ্রিকার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের ফল হিসেবে ২০১৭ সালের মে থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ‘‘৯০ হাজার ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসী লিবিয়া ও নাইজার থেকে ফেরত গিয়েছেন৷ এক লাখ অভিবাসীকে প্রত্যাবাসনের পর সহায়তা দেয়া হয়েছে৷’’

নারী অধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা

এএসজিআই এর আইনজীবীরা বলছেন, ইউরোপের রুটে নাইজেরিয়া থেকে পাচারের শিকার হওয়া নারীদের রক্ষায় ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর যে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা তারা প্রক্রিয়াগতভাবে লঙ্ঘন বিবেচনায় নেয় না৷

তাই আইনজীবী ক্রিস্টিনা লরা এবং লুস বনজানো এর মতে, এই নারীদেরকে অর্থনৈতিক কারণে অভিবাসী হিসেবে ধরে নেয়া হয়৷ তাদেরকে ফেরত পাঠালে তারা যে বিপদে পড়বে সেটিকেও দেশগুলো কোনোভাবে বিবেচনায় নেয় না৷

এএসজিআই বলছে, গ্রেপ্তারের পর লিবিয়ার আটক কেন্দ্রে তাদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে সেটিও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন৷ এক্ষেত্রে শত শত ইউরো দিয়ে লিবিয়ার শোষণমূলক কাজে ইটালি ও ইইউ সহায়তা করছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা৷

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।