দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এবার একযোগে ৬৬ জন নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তাঁদের দু–এক দিনের মধ্যেই দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা গনমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিএনপি এখন যে ৬৬ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁরা উপজেলা পরিষদে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে রয়েছেন। দলের নির্দেশনার পরও তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এর আগে প্রথম ধাপের ভোটে প্রার্থী থাকায় দল থেকে তৃণমূলের ৭৫ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দুই ধাপে বিএনপির নেতাদের বহিষ্কারের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৪১।
উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপেও বিএনপি নেতাদের অনেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের অবস্থানে থাকা দলটির বহিষ্কারের সংখ্যা দীর্ঘ হবে। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে কিছু নেতা বহিষ্কার হলেও তাতে তাদের দলের কোনো ক্ষতি হবে না।
দ্বিতীয় দফায় বিএনপির বহিষ্কারের তালিকায় থাকা ৬৬ জনের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ২৯ জন। ২০ জন নেতা হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী; আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ১৭ জন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দলের কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ করার পরও সর্বশেষ যে ৬৬ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি, তাঁদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।
এর বাইরে দ্বিতীয় ধাপে প্রার্থী হওয়া নেতাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের ২ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তবে গণহারে দল থেকে এই বহিষ্কার তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে; দলকে আরও দুর্বল করবে কি না, এসব প্রশ্নও রয়েছে বিএনপিতে। তবে কঠোর অবস্থানেই থাকছেন দলটির নেতৃত্ব।
দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ভোটে অংশ নিচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের নিয়ে কাজ করছেন—বিএনপির এমন নেতাদের অনুমান, উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপ পর্যন্ত বহিষ্কারের সংখ্যা দুই থেকে আড়াই শতে গিয়ে ঠেকতে পারে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় বহিষ্কারের এই সংখ্যাকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না বিএনপির নেতৃত্ব।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, এবার কমবেশি ৪৮০ উপজেলা পরিষদে চার ধাপে ভোট হবে। প্রথম ধাপে ভোট হবে ৮ মে। এরপর ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে, ২৯ মে তৃতীয় ও ৫ জুন চতুর্থ ধাপের নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে সব ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।