ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ মে ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু নির্যাতনের রক্তাক্ত বাস্তবতা: রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নাকি নীরব সমর্থন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২১, ২০২৬ ৬:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ। এই দুই বাস্তবতা যেন একই বার্তা দিচ্ছে—রাষ্ট্র তার সবচেয়ে অসহায় নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অসংখ্য শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এটি শুধু একটি অপরাধের পরিসংখ্যান নয়; এটি জাতির বিবেকের ওপর নির্মম আঘাত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা অপরিচিত কেউ নয়। প্রতিবেশী, আত্মীয়, শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠছে। যাদের হাতে পরিবারগুলো শিশুদের নিরাপত্তা তুলে দেয়, অনেক ক্ষেত্রে তারাই হয়ে উঠছে ভয়াবহ হুমকি।

নেত্রকোনার মদনে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ কিংবা রাজধানীর মিরপুরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এগুলো সমাজের গভীর নৈতিক অবক্ষয় ও রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার প্রতিফলন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এত ঘটনার পরও কেন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না? কেন বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যায়? কেন অপরাধীরা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে?

বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক নীরবতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা মিলেই এক ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি করেছে। অপরাধীরা যখন দেখে যে বিচার নিশ্চিত নয়, তখন তাদের মধ্যে ভয়ও কমে যায়। এর ফল ভোগ করছে শিশু ও পরিবারগুলো।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। একটি সভ্য সমাজে কোনো শিশুই ভয়ের মধ্যে বড় হতে পারে না। অথচ আজ পরিবারগুলো নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েই আতঙ্কিত।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন শুধু কঠোর আইন নয়, তার কার্যকর প্রয়োগও। দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের সুরক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা একসাথে বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে প্রশ্ন তুলতে হবে—
কেন অপরাধ থামছে না?
কেন বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না?
কেন শিশুদের নিরাপত্তা এখনো অনিশ্চিত?

শিশুদের নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এটি মানবিক দায়িত্ব, রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার এবং সভ্যতার পরীক্ষা।

শেষ কথা একটাই—
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।