দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৩৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬৩ হাজার ৯৪১ শিশুর শরীরে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৮২৩ শিশু এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৫ হাজার ৯৬২ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, নিয়মিত টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে দেশে হামের বিস্তার নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামনে এসেছে টিকা সংকট নিয়ে নতুন তথ্য। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি Rana Flowers জানিয়েছেন, টিকা সংকটের বিষয়ে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঁচ থেকে ছয়বার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে এবং প্রতিবারই সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, গত দুই বছর ধরে ইউনিসেফ সম্ভাব্য টিকা ঘাটতির বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল। তিনি জানান, টিকা কেনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কারণে বিলম্ব তৈরি হতে পারে এবং টিকার মতো বিশেষায়িত পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুধু কম মূল্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া যথাযথ পদ্ধতি নয়।
তবে তিনি সরাসরি কাউকে দায়ী না করে বলেন, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর কোনো শিশুর মৃত্যু না হয়।
এদিকে সরকার ইতোমধ্যে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন, রোগ পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ সরবরাহ বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
