ঢাকামঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে ঢাকায় ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দাপ্রধান, তাঁকেই গ্রেপ্তারের দাবি: আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ১১, ২০২৬ ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা’র প্রধান পরাগ জৈন চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে ঢাকায় এসেছেন। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের আমন্ত্রণে সফরে এসেছে। পরাগ জৈন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

ঠিক এমন সময় ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদির নামে প্রকাশিত একটি ফেসবুক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দাপ্রধানের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাঁকে ঢাকায় থাকা অবস্থায় দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।

তবে ওই বার্তায় এমন গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের আদেশ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিংবা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বিষয়টিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়, একটি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এখানেই বড় প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসা একটি বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রধানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অভিযোগের ভিত্তিতে কি বাংলাদেশ সরকার হঠাৎ গ্রেপ্তার করতে পারে?

আন্তর্জাতিক আইনটা আগে বোঝা দরকার

বিষয়টি এমন নয় যে, বিদেশি কর্মকর্তা হলেই তাঁকে কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রেপ্তার করা যাবে না। আবার কারও বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এখনই গ্রেপ্তার করুন’ বললেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে, আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তবতাও এমন নয়।

১৯৬৯ সালের বিশেষ রাষ্ট্রীয় মিশনসংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদে একটি রাষ্ট্রের সম্মতিতে অন্য রাষ্ট্র থেকে পাঠানো অস্থায়ী সরকারি প্রতিনিধিদলের জন্য বিশেষ আইনি কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি সরকারি সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত কিংবা দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি দায়মুক্তির প্রশ্নও উঠতে পারে।

কোন ধরনের দায়মুক্তি কোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে তাঁর সফরের আনুষ্ঠানিক মর্যাদা, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বা সম্মতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সরকারি পদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃতির ওপর।

অর্থাৎ পরাগ জৈনের সুনির্দিষ্ট আইনি অবস্থান নির্ধারণ না করে শুধু ‘তিনি ভারতের গোয়েন্দাপ্রধান, তাই তাঁকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা যাবে না’ বলা যেমন সঠিক নয়, তেমনি কারও ফেসবুকের লেখাকে সরাসরি গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি হিসেবে ধরে নেওয়াও সঠিক নয়।

কোনো বিদেশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তদন্ত, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ, বাংলাদেশের আইনে বিচারিক এখতিয়ার, প্রয়োজনীয় আদালতীয় প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো দায়মুক্তি রয়েছে কি না, এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

রাষ্ট্রীয় সফর এবং দুই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয় জড়িত থাকলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির মোকাবিলা করতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি কি গ্রেপ্তারের ভিত্তি?

এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা বলছেন, ‘ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দাপ্রধান ঢাকায় এসেছেন, এখনই তাঁকে ধরে ফেলুন’, তাঁদের একটি মৌলিক বিষয় বোঝা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ফেসবুকের মন্তব্যের ঘরের নিয়মে চলে না।

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ এবং প্রমাণ এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক স্লোগানও কোনো আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিকল্প হতে পারে না।

কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা যথাযথ তদন্ত সংস্থা ও আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর দেশের প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন আসবে।

একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

প্রশ্নটা আবেগের নয়, আইনের

হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে অবশ্যই সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের সামনে হাজির করা উচিত।

কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসা একজন বিদেশি কর্মকর্তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বার্তার ভিত্তিতে ‘এখনই গ্রেপ্তার করুন’ বলা আইন, কূটনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একটি রাষ্ট্র আরেকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক রীতি, পারস্পরিক সম্মতি এবং নিজ দেশের আইন অনুসারে। ফেসবুকের একটি লেখা দিয়ে সেই প্রক্রিয়া প্রতিস্থাপন করা যায় না।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।