ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ জুন ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রিজার্ভ বাড়লেও পোশাক খাতে গভীর সংকট, কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৫, ২০২৬ ১:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে সংকট এখনও কাটেনি। একদিকে টানা ৪৪ মাস পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরেছে, অন্যদিকে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও শিল্পখাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প এখনও বহুমুখী চাপে রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।

তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও বহু প্রতিষ্ঠান আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

সম্প্রতি গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন।

অন্যদিকে সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা জানতে পারেন, তাদের চাকরি আর নেই।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাননি তারা।

শ্রমিকদের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা

কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার হঠাৎ করেই আর্থিক সংকটে পড়েছে।

গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্সের সাবেক কর্মী বিল্লাল সোহাগ বলেন, “চাকরি হারানোর পর এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা সংসার চালানো। বাড়িভাড়া, সন্তানের লেখাপড়া এবং চিকিৎসার খরচ কীভাবে মেটাবো বুঝতে পারছি না।”

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক মন্দাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যয় কমানোর জন্য অভিজ্ঞ শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে।

কেন বাড়ছে সংকট?

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ এবং জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি পোশাক শিল্পকে চাপে ফেলেছে।

এছাড়া শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ফলে শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে। যদিও এটি শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক, তবে দুর্বল আর্থিক ভিত্তির অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার যে সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে, তা এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সংকটে থাকা কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে না।”

৪৪ মাস পর রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) দিন শেষে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

২০২২ সালের অক্টোবরে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পর এই প্রথম আবার সেই অবস্থানে ফিরলো দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্সে শক্তিশালী হচ্ছে রিজার্ভ

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৪ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমেছে এবং ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

তাদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিলেও শিল্পখাতের সংকট সমাধান ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। এজন্য ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলোকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নচেৎ একদিকে রিজার্ভ বাড়লেও অন্যদিকে কর্মসংস্থান সংকট আরও গভীর হতে পারে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে দেশের লাখো পোশাক শ্রমিককে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।