ঢাকারবিবার , ৭ জুন ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন, ২০৯ ধর্ষণ: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৭, ২০২৬ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ২০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

রোববার রাজধানীতে আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তবে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে টিআইবি মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ২০৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকারের প্রথম ১০০ দিনে খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে টিআইবি।

প্রতিবেদনে অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনও সীমিত বলে মন্তব্য করা হয়।

টিআইবি সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পরিহার, মন্ত্রীদের কর্মমূল্যায়নের ঘোষণা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নজরদারি জোরদার করা।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগে অগ্রগতির অভাবকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আইন স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রদায়িকতা ও অসহিষ্ণুতার বিস্তার দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করলেও সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে আরও দৃঢ় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।