ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ জুন ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্যুতের দাম এক লাফে বাড়ল, চাপে সব শ্রেণির গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৪, ২০২৬ ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন মূল্যহার জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনসহ সব ধরনের গ্রাহককে বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

নতুন দর অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে গড়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেশি গুনতে হবে গ্রাহকদের।

সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফলাইন বা প্রান্তিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিট মূল্য ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। এতে তাদের মাসিক বিল প্রায় ৩৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৯২ পয়সা বেশি।

মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় একটি অংশ যে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাদের প্রতি ইউনিট মূল্য ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। এ শ্রেণির গ্রাহকদের মাসিক বিল প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কৃষি খাতেও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের নতুন ইউনিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনগুলোকেও বাড়তি মূল্য দিতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আয় বছরে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়বে। সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমলেও এখনও প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অন্যদিকে খুচরা মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় হতে পারে।

মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। গণশুনানির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক দ্রুত। এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নতুন বাজেট প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের চাপ ছিল না।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এই মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অযৌক্তিক ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্প উৎপাদন ব্যয়, কৃষি সেচ খরচ, পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও এর বড় অংশ অলস পড়ে থাকে। এরপরও এসব কেন্দ্রকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া শুধু মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।