ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ফ্রান্সের সাথে মুসলিম বিশ্বের ভূ~রাজনীতি।
মুসলমানদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ফ্রান্সের এক শিক্ষকের কটুক্তি এবং সেই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যার জের ধরে ফ্রান্স আরব বিশ্ব মুখোমুখি।
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অবমাননা নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর মন্তব্যের জেরে ফরাসি পণ্য বয়কট করেছে আরব দেশগুলো। সেখানে দোকান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ফ্রান্সের সামগ্রী।
মাক্রোঁর মন্তব্যের ফলে কুয়েত, কাতার ও জর্ডনের দোকান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ফরাসি সব পণ্য। লিবিয়া, সিরিয়া ও গাজা ভূখণ্ডে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ।
এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, “ফ্রান্সে বলা হয়েছে তুরস্কের লেবেলযুক্ত পণ্য-সামগ্রী কিনবেন না। আমি তুরস্কের নাগরিকদের একই ধরনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
আঙ্কারায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান বলেন, “ফরাসি-লেবেলযুক্ত কোনো পণ্য সামগ্রী কখনই কিনবেন না।”
বিশ্বনবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গ করে মত প্রকাশের অধিকারের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন প্যারিসের একটি স্কুলের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি। তাকে হত্যা করেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ। তার পরই ফ্রান্সজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়।
মাক্রোঁ তখন বলেছিলেন, ‘আমরা কার্টুন ছেড়ে দেব না।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। পশ্চিম ইউরোপের সংখ্যালঘু সংগঠনও বলেছে, মাক্রোঁ ইসলামোফোবিয়া বাড়াতে সাহায্য করছেন।
এদিকে আরব দেশগুলো ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পর এমানুয়েল মাক্রোঁ টুইট করে তাঁর আগের অবস্থানে অনড় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টুইট মাক্রোঁ বলেছেন, ‘আমরা পরাজয় স্বীকার করব না। আমরা হেট স্পিচ বরদাস্ত করব না। যুক্তিসঙ্গত তর্ক সবময়ই সমর্থন করব। আমরা সবসময়ই স্বীকৃত মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে।’
এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ফরাসি জিনিস বয়কটের ডাক অর্থহীন। চরমপন্থীরা এই কাজ করছে। অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করা উচিত।’
অনেক আরব দেশেই ফরাসি পণ্য, বিশেষ করে মেকআপ সামগ্রী ও সুগন্ধী আর বিক্রি করা হচ্ছে না। শপিং মল বা দোকানের তাক খালি করে দেওয়া হয়েছে। কুয়েতে পাইকারি জিনিস বিক্রেতাদের একটি প্রধান ইউনিয়ন ফরাসি জিনিস বয়কটের ডাক দিয়েছে। তার পরই দোকান ও শপিং মল থেকে ফরাসি জিনিস সরে গেছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের সরকার ওই স্কুল শিক্ষককে দেশটির সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদকে ভূষিত এবং বিভিন্ন ভবনের গায়ে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিতর্কিত সেই কার্টুনের প্রদর্শন শুরু করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্টুনের প্রদর্শনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় একের পর এক মুসলিম দেশ ফরাসী পণ্য বর্জন করে চলছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এধরনের মনোভাবের কারনে ফ্রান্সের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সংকটে।
