বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, অন্ধকার দূর হবে, আলোর বিচ্ছুরণ হবে, এই হল জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মের তাৎপর্য। নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমাদের একটাই স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্য ছিল আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শূন্যতা পূরণ করব। বাঙালির বাঁধভাঙ্গা কান্না এবং প্রকৃতির কান্নায় একাকার হয়ে ঝড় উঠেছিল জনমনে, পাগলে মত ছুটেছিল মানুষ সরকার-পুলিশ-বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের বাঁধা উপেক্ষা করে জন সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ, বিমান বন্দর থেকে সর্বত্র।
তিনি বলেন, আল্লাহ নিজের রহমতের চাদরে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে চলেছেন। ২১ আগস্টসহ এখনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বুলেট-বোমা উপেক্ষা করে নেত্রীর সুরক্ষায় প্রাচীর হয়ে অবস্থান করছে।
শনিবার (১ অক্টোবর) ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপির ৭৬ তম শুভ জন্মদিন পালনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জাগরিত করে নানা রকমের হামলা জয় করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন করে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবার্দশে একটি সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করতে চায়। পাকিস্তান প্রেমী মির্জা ফখরুল এবং তারেক জিয়ারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা ১৬ কোটি মানুষ এবং আওয়ামী লীগের সকল সংগঠনকে সাথে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করব।
বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ বলেন, ১৯৮১ সালে কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে জাতির পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যান, হাল ধরেন বাঙালি জাতির, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ তলা বিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেন এবং শিক্ষাঙ্গণকে সন্ত্রাস মুক্ত ও সেশনজট মুক্ত করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করেন। আজকের এই মঞ্চে নেত্রীর শুভ জন্মদিন উপলক্ষে একটি কথাই বলব, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করতে হবে। তিনি কৃষকরত্ন শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। কারণ তিনি সুস্থ থাকলে বাংলাদেশ থাকবে, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
সভা সঞ্চলনা করেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ আলী, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, এস.এম আকবর আলী চৌধুরী, হোসনে আরা এমপি, কৃষিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা, নূরে আলম সিদ্দিকী হক, অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু, অর্থ সম্পাদক মো. নাজির মিয়া, আইন সম্পাদক অ্যাড. ড. জহির উদ্দিন লিমন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।
সভা শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
