রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। টান-টান উত্তেজনা যখন আছড়ে পড়ার কথা ঠিক তখনি দেখা যায় বিপরীত চিত্র। এ অবস্থা দেখা যায় রাজশাহী নগরীর ফায়ার সার্ভিস মোড় সংলগ্ন হাজী মুহম্মদ মুহসীন স্কুল মাঠে (মাদরাসা মাঠে) নেতাকর্মীদের উপস্থিতি পর্যালোচনায়। সভার মঞ্চে নেতাকর্মীদের যতটা ভিড় লক্ষ করা গেছে ততটাই হতাশ করেছে মাঠে নেতাকর্মীদের অবস্থান। সময়ের ব্যবধানে এই পার্থক্য প্রকট হতে থাকে। এক পর্যায়ে দলটির মহাসচিবের বক্তব্যের আগেই মাঠের অর্ধেক প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। নেতাকর্মীদের এ অবস্থা দেখে হতাশা প্রকাশ করন কেন্দ্রীয় নেতাসহ স্থানীয় নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ শুরুর আগে বসা নিয়ে মারামারি হয়েছে। অথচ সভা শুরুর পর এ অবস্থা আর দেখা যায়নি। তখন আস্তে আস্তে মাঠ খালি হতে থাকে। এক পর্যায়ে ফখরুল যখন বক্তব্য দেওয়া শুরু করে তখন মাঠ প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।
কিন্তু মঞ্চের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। কানায় কানায় ভরা ছিল সভা মঞ্চ। শেষ অবধি মঞ্চে থাকা নিয়ে মৃদু ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে চলে। মঞ্চের দক্ষিণ পাশে যে যার মতো বসেছিলেন চেয়ারের নিচে। আবার অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে ছিলেন মঞ্চে। ফলে গোটা মঞ্চ মিলে অন্তত ৪০০ নেতাকর্মী ‘ঠাঁই’ নেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ছবি, সেলফি তোলাতেই ব্যস্ত সময় পার করেন। অনেকে নেতাদের বক্তব্যের সময় ডায়াসের সামনে গিয়ে সেলফি তোলেন। বক্তাদের দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় মঞ্চের নিচে অবস্থান করা নেতাকর্মীদের।
এদিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার বক্তব্য চলাকালে সমাবেশ স্থলে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় নেতাকর্মীরা একে অন্যের দিকে ফেস্টুন, লাঠি, পানির বোতল ছোড়াছুড়ি করতে থাকেন। পরে মঞ্চে থাকা নেতাদের কথায় তারা শান্ত হয়ে বসেন। এদিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আহবায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সমাবেশে মারামারি হয়েছে। যেটুকু শুনেছি, সমাবেশ চলাকালে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা হয়। এ সময় সেই রাগ থেকেই ফের সমাবেশ শেষে মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি। এর বেশি কিছু জানি না।
অপরদিকে মঞ্চে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ দুপুরের দিকে ওঠার পরে তার জায়গা হচ্ছিল না। এতে রাজশাহী ও আশপাশের জেলা থেকে আসা নেতারা কে কোথায় বসবেন, তা নিয়েও দেখা দিয়েছিল মনোমালিন্য। এর মধ্যে আবু সাইদ মঞ্চে গেলে তার বসার জায়গা না পেয়ে কয়েকজনকে সরানোর চেষ্টা করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এ সময় সাইদের সঙ্গে তাদের হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এসময় মঞ্চে কারো যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তরুণদের দুর্বার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটবে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এখন লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে মঞ্চে যারা বসে আছি অধিকাংশই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ধানের শীষে আজ রক্ত জমেছে। এই রক্ত পরিষ্কার করতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিনা রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ আরও অনেকে।
