ঢাকাSaturday , 15 October 2022
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ময়মনসিংহে মঞ্চ তৈরির সময় আ. লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীর ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া

Link Copied!

ময়মনসিংহে প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাঠে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। সে জন্য শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) রাতে চলছে মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ। শনিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে শুরুর কথা রয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে মাঠে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। এ নিয়ে শহরজুড়ে উত্তেজনা চলছে। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে টাউনহল মোড়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন চারজন।

সার্কিট হাউজ মাঠ ও ঈদগাহ মাঠসহ চারটি স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েও পায়নি বিএনপি। অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা যেন সমাবেশে আসতে না পারে, সেজন্য গণ-পরিবহন, ট্রাক ও সিএনজি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সাহেল প্রিন্স বলেন, ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠ, ঈদগাহ ময়দানসহ চারটি স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েও পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সহযোগিতা করেনি। তাই ময়মনসিংহ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাঠে সমাবেশ হবে শনিবার। তবে আওয়ামী লীগ হোন্ডা মহড়া দিচ্ছে, নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে, পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশটা করতে। জনগণের গণদাবী বাস্তবায়ন করতে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটবে সমাবেশে।সমাবেশের আগের দিনই বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ময়মনসিংহে এসেছে। রাতে মঞ্চ তৈরির সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী ছিল পলিটেকনিক মাঠে। জেলার গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল, মহড়ার বিপরীতে বিএনপির তৎপরতা ছিল না। স্থানীয় এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের অনুসারীরা গ্রামে গ্রামে ‘পাহারা’ বসিয়েছে বিএনপি কর্মীদের সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে। গফরগাঁওয়ের বিএনপি কর্মীরা ভালুকা, শ্রীপুর গিয়ে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে ময়মনসিংহে আসছে।ময়মনসিংহে মঞ্চ তৈরির সময় আ. লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীর ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া

শহরে বাধা না দিলেও আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সমাবেশ করে আজ ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেয়। দুপুরে নতুনবাজারে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল মিছিল করে দলটির কর্মীরা। রাতে সমাবেশস্থলের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও মহড়া দেওয়া হয়।

সমাবেশস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে শহরের কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আজ দিনভর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেতারা বলছেন, পায়ে পা দিয়ে সমাবেশ পণ্ড করতে চাইছে। তাদের দাবি- কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে সমাবেশে।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মী হত্যা, হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ করেছিল বিএনপি। তবে সেবার রাতের বেলায় রেলওয়ের কৃষ্ণচূড়া চত্বরের মতো ছোট স্থানে সমাবেশ হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, দলীয় কার্যালয়ে সামনে সমাবেশ করতে বলেছিল প্রশাসন। অবশেষে যেখানে অনুমতি, সেই পলিটেকনিক মাঠ কর্দমাক্ত। মাঠ সংস্কার ও গণপরিবহন সচল রাখতে প্রশাসনকে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি।

তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমরান সালেহ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ শহরজুড়ে মহড়া দিয়ে উস্কানি দিচ্ছে। প্রশাসন লাঠি ও বাঁশ আনতে নিষেধ করেছে। কিন্তু বিএনপি কর্মীদের নিরাপত্তা কে দেবে?’ আজ রাতে দেখা গেছে, সমাবেশস্থলে লাঠি নিয়েই জমায়েত হয়েছে বিএনপি কর্মীরা।

রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, তাঁরা বিএনপির সমাবেশকে স্বাগত জানান। কিন্তু নৈরাজ্য হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

দলটির জেলার সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, শনিবার মিছিল, সভা করবে না আওয়ামী লীগ। তবে মোড়ে মোড়ে থাকবে নেতাকর্মীরা। নৈরাজ্য হলে প্রতিবাদ করবে।

মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিতে দলীয় নির্দেশ নেই। নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিএনপি হামলা করলে প্রতিহত করা হবে। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেছেন, গফরগাঁও থেকে বিএনপি কর্মীদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

দুপুরে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যানবাহন বন্ধ করে দিলেও হেঁটেই জনস্রোত আসবে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মাছুম আহাম্মদ ভুঁঞা বলেন, কাউকে লাঠি-বাঁশ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তায় শহরজুড়ে পুলিশ থাকবে। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী বাস চলছে না। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের নেতাকর্মীর বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে।

সরেজমিন শহরের পারলা আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড, বনুয়াপাড়া ও রাজুরবাজার বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা ও ময়মনসিংহগামী বাস না চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাঁরা বাড়তি ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছেন। নেত্রকোনা পৌর এলাকার চকপাড়ার নজরুল ইসলাম গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি জানান, বাস না পাওয়ায় কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। তিনি গরিব মানুষ। তাঁর এক দিনের উপার্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অপর এক বাসযাত্রী মানিক মিয়া জানান, ময়মনসিংহে যেতে পারেননি বাস বন্ধ থাকায়। বাস শ্রমিক সাইদুল ইসলাম ও কামাল হোসেন বলেন, বিএনপির সভা; তাই বাস বন্ধ। সভা শেষ হলে বাস চলবে। তবে এ বিষয়ে জেলা বাস মালিক সমিতির সম্পাদক আরিফ খানের মন্তব্য জানতে পারেনি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আনোয়ারুল হকে বলেন, বিএনপি কর্মীদের আটকাতেই বাস বন্ধ করা হয়েছে। তবে পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদের দাবি, যানবাহন চলাচলে বাধা নেই। বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্টে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সমাবেশ ঘিরে বিএনপি তৎপর না থাকলেও সরব আওয়ামী লীগ। গফরগাঁও পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নেই আজ দিনভর শোডাউন করে আওয়ামী লীগ। উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও বারোবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী দল। তারা সমাবেশের নামে যেন নৈরাজ্য করতে না পারে, সে জন্য আওয়ামী লীগ মাঠে রয়েছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আজ দুপুর থেকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ রুটে বাস বন্ধ করে দিয়েছে জেলা বাস-কোচ মালিক সমিতি। নালিতাবাড়ী, নকলা, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা থেকেও দূরপাল্লার বাস বন্ধ। সমিতি জানিয়েছে, নিরাপত্তার শঙ্কায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত বাস বন্ধ থাকবে। বিএনপি নেতারা বলেছেন, তাঁদের সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতে সরকারের নির্দেশে পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে।

জেলা বিএনপি সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল জানিয়েছেন, শুক্রবার বাস ও ট্রাক মালিকরা ভাড়ার টাকা ফেরত দিয়েছেন। মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্টু ঘোষ বলেন, ‘আপনারা জানেন- কেন বন্ধ।’ তাঁর দাবি, নিরাপত্তায় শঙ্কায় মালিকরা বাস চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ত্রিশাল (ময়মনিসংহ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ময়মনসিংহে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভালুকা-ত্রিশাল-ময়মনসিংহ রুটে চলা শালবন পরিবহনের ৭০টি বাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সমিতি। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, বাস-ট্রাক কিছুই ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনে হেঁটে ময়মনসিংহ যাবে কর্মীরা।

ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা নেই। সমিতি গাড়ি বন্ধ করেনি। কোনো মালিক গাড়ি ভাড়া দিলে তা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন। শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ফরিদ বলেন, বিএনপি সমাবেশ করবে। তাতে আওয়ামী লীগ কেন বাধা দেবে? আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আক্তারুল আলম বলেন, দলের সবাই অংশ নেবে সমাবেশে।

বিএনপি কর্মীদের আটকাতে গাজীপুর পুলিশেরও বাধা নেই। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক আজিজুর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা নেই।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।