দীর্ঘ সাত বছর পর সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। শহরে ঢুকতেই দেখা মিলে রাস্তায় রাস্তায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় শতাধিক তোরণ। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে সোমবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ৩টায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে জেলাব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কে হচ্ছেন সভাপতি আর কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক এই নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল ও সার্থক করতে ইতিমধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সম্মেলন প্রশ্নে সব নেতাকর্মী আজ ঐক্যবদ্ধ। সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে সম্মেলন সফল করার লক্ষে সকলে একত্র হয়ে কাজ করছেন। সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন উপজেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও পাড়ামহল্লায়ও প্রত্যেকটি নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে উচ্ছ্বাস।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাহজাহান খান এমপি, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মণি।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শিক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, মোহাম্মদ সাঈদ খোকনসহ প্রমুখ।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫ সালে ফজলুর রহমান খান ফারুককে সভাপতি, জোয়াহের ইসলাম জোয়াহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী সম্মেলনে কে হচ্ছেন সভাপতি আর কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা জানান, সম্মেলনে এক লাখ লোকের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। সেলক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সম্মেলনের দুই পর্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এরমধ্যে মাথাপিছু ২৭০ টাকা হিসেবে এক লাখ নেতাকর্মীর খাবার ও তিন লাখ টাকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যয় হিসেবে বাকি টাকা মঞ্চ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা সময় দিতে না পারায় সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তারা মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলনে সম্মানিত ডেলিগেট ও কাউন্সিলররা একবেলা খাবার পাবেন না- এটা দলের স্থানীয় নেতাদের দেউলিয়াত্বের পরিচায়ক।
এদিকে, জেলার ১২টি উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলন শেষ করা হলেও অধিকাংশ ইউনিটেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ৩-৪টি পদের বিপরীতে নেতাদের নাম ঘোষণা দিয়ে সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। এজন্য দলের জেলা সম্মেলনে কাউন্সিলরদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অধিকাংশ উপজেলা সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করায় স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, আগামী (৭ নভেম্বর) টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের ১০টি সাংগঠনিক ইউনিটের অধীনে প্রায় সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা সম্মেলন করা হয়েছে। যদিও ২-১টা উপজেলার সম্মেলন এখনও করা সম্ভব হয়নি- এটা জেলা সম্মেলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এছাড়া সম্মেলন সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
