চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘গোপন বৈঠককালে’ জামায়াতের ১১ নারী সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। অবসরকালীন ছুটিতে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালামের ভাড়া বাসায় এ বৈঠক হয়।
রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারের কিউসি টাওয়ারের ১১ তলার ওই বাসাতে বৈঠক চলাকালে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, কিউসি টাওয়ারের ১১ তলার ‘বি’ব্লকে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছর তিনি অবসরকালীন ছুটিতে যান বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
তিনি বাসা ভাড়া নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত ওই বাসায় জামায়াতের নারী সদস্যরা আসা-যাওয়া করতো এবং গোপন বৈঠক হতো। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসাসহ ভবনটি নজরদারীতে রাখে পুলিশ। এরপর রবিবার গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জামায়াতের ১১ নারী সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় ওই বাসা থেকে জামায়াতের মতাদর্শের বই, প্রচারপত্র, চাঁদা আদায়ের রশিদ বই ও দাওয়াতি কার্ডসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আটকদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে কিউসি টাওয়ারের ‘বি’ব্লকের সত্ত্বাধিকারী মো. সফিকুর রহমানের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের কথা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তার অফিস সহায়ক (দারোয়ান) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ওই বাসায় প্রায় সময় মহিলারা আসা-যাওয়া করতো। তারা কী কারণে আসা-যাওয়া করতো, তা তিনি জানেন না।
এদিকে ওই সময়ে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ওই স্থান থেকে সরে যান। পরে তাকে না পাওয়ায় এবং তার মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করতে না পারায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, সোমবার প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সব জানানো হবে। তবে জামায়াতের নারী কর্মীদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
