চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা,অভিযুক্তকে আটক করতে গিয়ে সংঘর্ষ, আহত দুই শতাধিক
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। এ ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই সাংবাদিকও।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকরা হলেন স্থানীয় অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চট্টগ্রাম প্রতিদিন–এর মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। সংবাদ সংগ্রহের সময় তারা আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে— এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। শিশুটিকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে জানা গেছে।
বাকলিয়া থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান গণমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে আটক করেছে। আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে বলে বিক্ষুব্ধদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।”
দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মা জানান, লাইভ সম্প্রচারের সময় পুলিশের গুলিতে মামুন আবদুল্লাহ কোমরে এবং নোবেল হাসান হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাঁদের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল–এ নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
