বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত দিল্লি সফর এগিয়ে আগস্টের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগের মধ্যেই এই সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওই সময়ে তাঁর দিল্লি যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর পরিবর্তে আগস্টের শেষ সপ্তাহে সফর এগিয়ে এনে ভারতের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠকের একটি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে ১১ আগস্ট নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রকাশ্যে বৈঠকটিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুকেন্দ্রিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বা তাঁকে ঘিরে কোনো পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে ৩১ জুলাই ঢাকা সফরের সময় সার্জিও গোর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই আলোচনায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিও উঠে আসে।
গত ১০ আগস্ট দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (R&AW)-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ আগস্ট প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (DGFI) আমন্ত্রণে ঢাকায় আসে। পরাগ জৈন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের আলোচনায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাস্তব বিষয় উঠে এসেছে। তবে এসব আলোচনার বিস্তারিত ভারত বা বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ফলে সম্ভাব্য তারিখ বা নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্যগুলো এখনো সূত্রনির্ভর দাবি হিসেবেই বিবেচ্য।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে। ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে তুলেছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি ভারতের আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে বিষয়টি শুধু প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর ফেরার সময় ও যাত্রাপথ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বিমানবন্দর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুই দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয় এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক জমায়েতসহ একাধিক বিষয় সামনে আসতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একদিকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে যোগাযোগ বেড়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো আলোচনায় যুক্ত রয়েছে, এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।
আগস্টের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাস্তবায়িত হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সেই সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: Northeast News, চন্দন নন্দীর প্রতিবেদন, ১১ আগস্ট ২০২৬।
