রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তার স্বামী এবং এক কথিত সাধু ফকিরকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত হামিদ ফকির–এর বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার চক ধাঁধাস গ্রামে। বাড়ির পাশেই তার একটি আস্তানা রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মানত, আধ্যাত্মিক পরামর্শ কিংবা সমস্যার সমাধানের আশায় যেতেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামীও ওই ফকিরের অনুসারী ছিলেন। ছয় মাস আগে ওই নারীর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। নতুন সংসার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখলেও পরে তিনি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করেন তার স্বামী। কিন্তু বাজারে না নিয়ে তাকে সরাসরি হামিদ ফকির–এর আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে স্বামীর সহযোগিতায় ওই নারীর হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো ঘটনায় তার স্বামী সহযোগিতা করেছে এবং নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি করেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীকে চুপ থাকতে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। তবে একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসা নেন। পরে সোমবার বেলপুকুর থানা–এ গিয়ে স্বামী ও হামিদ ফকির–এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ফারুক হোসেন জানান, অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নারী অধিকারকর্মীরাও ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
নারী অধিকারকর্মী সাবিহা রহমান বলেন, শুধু মূল অভিযুক্ত নয়, সহযোগীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি বিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান।
