প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ওয়াশিংটন ডিসি, বুধবার
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে Global Coalition for Democracy and Governance (জিসিডিজি)। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিসিডিজি জানায়, সাম্প্রতিক আলোচনায় এমন কিছু শর্ত ও প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, নিরাপত্তা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ও উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বিমান ও জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
জিসিডিজি মনে করে, জনগণের মতামত ও সংসদীয় পর্যালোচনা ছাড়া এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হতে পারে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বাংলাদেশের উচিত একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হওয়া থেকে বিরত থাকা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক শান্তি এবং জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
জিসিডিজি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ এবং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন যেকোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
মূল প্রেস রিলিজ:
GCDG Official Statement
