ঢাকাবুধবার , ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কূটনীতির সীমানা ছাড়িয়ে: খালিলুর রহমান কি নতুন ক্ষমতার সমীকরণ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ৪:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পরিসরে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নাম ক্রমেই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—খালিলুর রহমান। একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নতুন কিছু নয়। তবে যা নতুন, তা হলো তার দ্রুত উত্থান এবং ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান।

প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে—এটি কি কেবল একজন দক্ষ কূটনীতিকের স্বাভাবিক অগ্রগতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনা?

খালিলুর রহমানের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক তৎপরতা নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তার দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মতো একটি কৌশলগত অবস্থানের দেশে, যেখানে পররাষ্ট্রনীতি প্রায়ই অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, সেখানে এ ধরনের প্রভাব অগ্রাহ্য করা যায় না।

তবে এই উত্থান যতটা দ্রুত, ততটাই তা বিতর্কমুক্ত নয়। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে তার সম্পৃক্ততা এবং তা সামরিক-বেসামরিক ভারসাম্যের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে—এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ভারসাম্য সবসময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়, এবং সেখানে নতুন কোনো শক্তিশালী কেন্দ্রের আবির্ভাব স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়।

একই সঙ্গে, ‘আরাকান করিডোর’-এর মতো নীতিগত প্রস্তাব তার কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিলেও, এর নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একটি মানবিক উদ্যোগ কখনও কখনও বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতায় জটিলতা তৈরি করতে পারে—এখানেও সেই আশঙ্কা উত্থাপিত হয়েছে।

তবে সব কিছুর মধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি থেকে যায়—খালিলুর রহমান কি কেবল একজন নীতিনির্ধারক, নাকি তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক ভূমিকার দিকে এগোচ্ছেন? ‘টেকনোক্র্যাট’ হিসেবে তার উপস্থিতি যদি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ায়, তাহলে তা ইতিবাচক। কিন্তু যদি এটি ক্ষমতার কাঠামোয় নতুন এক অদৃশ্য কেন্দ্র তৈরি করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী হওয়াই মূল লক্ষ্য, সেখানে ব্যক্তিনির্ভর ক্ষমতার উত্থান সবসময়ই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। খালিলুর রহমানের ভবিষ্যৎ পথচলা তাই শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্যের গল্প নয়—এটি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।