বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সফরসূচিতে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হঠাৎ বাতিল হওয়ায় কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও নানা জল্পনা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই রাত ৮টায় ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে সার্জিও গোরের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এর আগে একই দিনে সার্জিও গোর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট থমাস ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সফরসূচি অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি ও কূটনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সার্জিও গোর বাংলাদেশে পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই সার্জিও গোরের সম্মানে নির্ধারিত নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিলের খবর প্রকাশিত হয়। এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক এবং সফরসূচির পরিবর্তনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সফরসূচির আকস্মিক পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সফরকালে সার্জিও গোরের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বাতিল কর্মসূচি ও বৈঠকের তথ্য বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সফরসূচি পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।)
