বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে সেলেসাওরা।
ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো, হায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগো চিয়াগো ও দানিলো সান্তোস। পানামার হয়ে একটি গোল করেন কার্লোস হার্ভে, অপর গোলটি আসে মাথেউস কুনহার আত্মঘাতী ভুল থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে ১৪তম মিনিটে আমির মুরিয়োর নেওয়া ফ্রি-কিক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনহার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে সমতায় ফেরে পানামা।
গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের বেশ কিছু সময় ব্রাজিলকে অস্বস্তিতেই কাটাতে হয়। তবে ৩৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আনচেলোত্তির দল।
দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় এক ভিন্ন ব্রাজিলকে। বিরতির পর ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা ছাড়া একযোগে ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। একই সঙ্গে ৪-২-৪ ফরমেশন থেকে ৪-৩-৩ ছকে ফিরে যায় দল। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলও আসে দ্রুত।
৫৩তম মিনিটে ইগো চিয়াগোর পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড হায়ান। এরপর ৬০তম মিনিটে লুকাস পাকেতার গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। তিন মিনিট পর পেনাল্টি থেকে সফলভাবে গোল করে দলের পঞ্চম গোলটি করেন চিয়াগো।
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে পাকেতার দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করেন দানিলো সান্তোস। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-১। ম্যাচের শেষ দিকে কার্লোস হার্ভে পানামার হয়ে একটি গোল শোধ করলেও তাতে ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এ ম্যাচে খেলেননি ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। তবে মারাকানায় উপস্থিত থেকে দর্শকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি। এছাড়া সম্প্রতি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে ব্যস্ত থাকার কারণে মার্কিনহোস, গাব্রিয়েল মাগালায়েসসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও এদিন স্কোয়াডের বাইরে ছিলেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই বড় জয় ব্রাজিল শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি যে শিরোপার অন্যতম দাবিদার, সেই বার্তাও স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে সেলেসাওরা।
