রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার পর শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ঘাতক। মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলার পাশের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির দুই টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, খাটের নিচ থেকে দেহ এবং বাসার শৌচাগার থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্ত্রীকেও আটক করেছে পুলিশ।
নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। পরিবারটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সকালে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা শিশুটিকে হত্যা করে। ঘটনার পর তিনি বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান।
রামিসার পরিবার জানায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি জুতা দেখতে পান মা। সন্দেহ হলে প্রতিবেশীর দরজায় বারবার নক করা হলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেনি। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, “শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।”
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
