ঢাকাবুধবার , ২০ মে ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রক্তের ঋণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জমে ওঠা জনক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২০, ২০২৬ ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রক্তের ঋণ, ন্যায়ের দাবি—বাংলার মাটিতে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্রোধ ও কান্না
বাংলার মাটিতে আবারও এক চেনা দৃশ্য—প্রতিবাদের ভাষা চোখ বেঁধে রাখা লাল কাপড়ে, আর মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে ন্যায়বিচারের আহ্বান। ছবির দুই তরুণ কেবল ব্যক্তি নয়, তারা আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—একটি সমাজ, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে আগে চোখ বাঁধতে হয়, কারণ সত্য দেখা এবং বলা—দুটোই আজ ঝুঁকিপূর্ণ।
“মায়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”—এই স্লোগান আজ আর কেবল একটি প্রতীকী উচ্চারণ নয়; এটি কক্সবাজারের উখিয়ার সেই শোকাহত মায়ের কান্নার প্রতিধ্বনি, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই প্রাণ হারালেন। আব্দুর রহমানের মায়ের মৃত্যু কোনো পরিসংখ্যান নয়, এটি এক মায়ের শেষ আর্তনাদ—একটি বুকফাটা চিৎকার, যা রাষ্ট্রের দেয়ালে গিয়ে ধাক্কা খেয়েও প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরেছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের দরজা খুলতে পারেনি।
এই এক ঘটনা নয়—এ যেন একটি ধারাবাহিক ট্র্যাজেডির অংশ। নোয়াখালীর নারী নির্যাতনের ঘটনা, সিলেটে সংঘটিত গণপিটুনি, ঢাকায় ছাত্র রাজনীতির নামে সংঘর্ষে প্রাণহানি—প্রতিটি ঘটনার ভেতরেই একই গল্প: অপরাধ ঘটে, মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, কিছুদিন আলোড়ন থাকে, তারপর ধীরে ধীরে সব চাপা পড়ে যায় ক্ষমতার ভারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি—রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সহিংসতা, প্রতিহিংসার রাজনীতি, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। কোথাও দ্রুত গ্রেফতার, কোথাও রহস্যজনক নীরবতা—এই দ্বৈত মানদণ্ডই মানুষের আস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে। বিচার যেন আর ন্যায়বিচার নয়, বরং ক্ষমতার পাল্লায় মাপা একটি সিদ্ধান্ত।
ছবির তরুণদের চোখ বাঁধা—এটি নিছক প্রতীক নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি এক তীব্র ব্যঙ্গ। যখন একজন মা নিজের সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে জীবন দেন, তখন প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্র কি সত্যিই অন্ধ, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধ হয়ে আছে?
“আজ হোক কিংবা কাল সত্যের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে”—এই উচ্চারণে একদিকে যেমন অটল বিশ্বাস আছে, অন্যদিকে তেমনি জমে থাকা ক্ষোভও আছে। কারণ মানুষ জানে, বিচার দেরিতে এলে তা অনেক সময় আর বিচার থাকে না—তা হয়ে যায় কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
এই দেশের মাটিতে আজ নিরাপত্তাহীনতা একটি সর্বজনীন বাস্তবতা। মা তার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, তরুণ তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত, আর সাধারণ মানুষ তার ন্যায্য অধিকার নিয়ে শঙ্কিত। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কেবল অপরাধীদেরই সাহসী করে তুলছে না—এটি পুরো সমাজকে ধীরে ধীরে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—এই ক্ষোভ আর কান্না জমতে জমতে একসময় বিস্ফোরণে রূপ নেয়। ছবির মুষ্টিবদ্ধ হাতগুলো তাই শুধু প্রতিবাদ নয়—এগুলো একটি জাতির সহ্যের সীমা ছুঁয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।
এই বার্তা স্পষ্ট:
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ নয়—এটি কক্সবাজারের সেই মায়ের রক্ত, নোয়াখালীর নির্যাতিত নারীর কান্না, সিলেটের নিরীহ মানুষের মৃত্যু—সব মিলিয়ে একটি জাতির সম্মিলিত আর্তনাদ।
এটি কোনো পোস্টার নয়—এটি বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের এক চূড়ান্ত ঘোষণা।
রাষ্ট্রের সামনে এখন আর কোনো অজুহাত নেই—
বিচার নিশ্চিত করুন, নইলে এই রক্ত, এই কান্না একদিন ইতিহাস হয়ে ফিরে এসে পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।