প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় পৌঁছানো জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, হাইকোর্ট ও নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন সংক্রান্ত আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছার পর তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর জামিন নিশ্চিত করা হয়। অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তির সময় কারাগারের ফটকে তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি গাড়িতে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন। এক বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিতের আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে। ফলে তার মুক্তির পথ সুগম হয়।
তিনি আরও জানান, আইভী ভবিষ্যতেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করা হয়। পরে তাকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সাবেক এই মেয়র ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
