বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ঢাকায় সফররত এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা সোমবার এ ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এডিবি জানিয়েছে, এই প্যাকেজের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে অর্থ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির অধীনে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে। এসব অর্থ জ্বালানি, পরিবহন, জলবায়ু সহনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
মাসাতো কান্দার ভাষায়, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি এবং একটি বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গঠনে এডিবি সহায়তা করবে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, বড় অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তা স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ঋণনির্ভরতা বাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এডিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। এর পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চলমান সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি গতি আনতে পারবে, নাকি এটি কেবল সাময়িক চাপ সামাল দেওয়ার একটি উপায় হয়ে থাকবে। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত সহায়তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।
