ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এখন আগের তুলনায় মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।
শুক্রবার এনবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তার দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি এখন অতীতের তুলনায় অনেক দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন যে ইরানের হাতে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “তাদের কিছু অস্ত্র এখনো রয়েছে, কিন্তু সামগ্রিক সক্ষমতা ২১ বা ২২ শতাংশের বেশি নয়।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে, তবুও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে ইরানের অনীহা আলোচনার গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে দেওয়া পৃথক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম।
এদিকে ট্রাম্পের এই দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনও তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধরে রেখেছে। কিছু প্রতিবেদনে ইরানের হাতে যুদ্ধপূর্ব মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আসছে। ফলে ইরানের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অবশিষ্ট সামরিক শক্তি সম্পর্কে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
