ঢাকাসোমবার , ১ জুন ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান জোরদার, বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ১, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নতুন করে জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে লেবাননের আরও অভ্যন্তরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩৭ ডলার বা ২ দশমিক ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ২৮ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং সীমান্ত এলাকায় নতুন করে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক গবেষণা নোটে বলেন, হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে। এমনকি নতুন কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও রাতারাতি বাজারে অতিরিক্ত তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের উৎপাদন খাতে মন্থরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি হ্রাস ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটির শিল্পখাত চাপে রয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্থরতার আশঙ্কার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন খাত এবং ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।