ঢাকারবিবার , ২৪ মে ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বেক্সিমকো এভিয়েশন’ থেকে ‘আকিজ বশির এভিয়েশন’ রূপান্তরে অনিয়মের অভিযোগ; হ্যাঙ্গার দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২৪, ২০২৬ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বেসামরিক বিমান উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ‘বেক্সিমকো এভিয়েশন’ থেকে ‘আকিজ বশির এভিয়েশন’-এ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) ফেরত দেওয়ার পর মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই ব্যক্তি আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একই ধরনের অনুমোদনের আবেদন করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছেন বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক এবং আকিজ বশির এভিয়েশনের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন।

জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমানের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বেক্সিমকো এভিয়েশনও চাপে পড়ে। দেশের অন্যতম হেলিকপ্টার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য সিভিল এভিয়েশনে একটি চিঠি দেন সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন।

এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন বলেন, “এটি ছিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। একজন কর্মকর্তা হিসেবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমার ছিল না।”

তবে বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ডিএফও ক্যাপ্টেন জাহিদুর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেটি সিইওর পক্ষ থেকেই আসে।

অন্যদিকে তৎকালীন সিওও ক্যাপ্টেন মাহবুব আলম অভিযোগ করেন, কর্মীদের পদত্যাগ করে অন্যত্র চাকরি নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।

তাদের দাবি, বেক্সিমকো এভিয়েশন বন্ধ করে আকিজ বশির এভিয়েশনকে দ্রুত কার্যক্রম শুরুর সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিরেক্টর ফ্লাইট অপারেশনসকে অবহিত না করেই একটি ভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন তৎকালীন বাণিজ্য এবং পরে বেসামরিক বিমান উপদেষ্টা হওয়া শেখ বশির উদ্দিন।

এর পর ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল বেক্সিমকো এভিয়েশনের শেষ কর্মদিবস। এরপর ৪ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট ও হ্যাঙ্গার ফেরত দেওয়ার আবেদন করা হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যেই আকিজ বশির এভিয়েশনের পক্ষ থেকে নতুন করে অনুমোদনের আবেদন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হ্যাঙ্গারের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ পাওয়ার প্রায় তিন মাস আগেই আকিজ বশির এভিয়েশন সেখানে কার্যক্রম শুরু করে।

এ বিষয়ে মাহবুব আলম বলেন, “আমরা অফিস ছাড়ার এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই দেখি একই স্থানে আকিজ বশির তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন।

তিনি বলেন, “যে হ্যাঙ্গার এখন আমাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি আগে কার নামে ছিল, সেটি আমার জানার বিষয় নয়। আর বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার আমার হ্যাঙ্গারের মধ্যে নেই।”

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার জোনে গিয়ে দেখা যায়, যে হ্যাঙ্গারটি বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি আগে বেক্সিমকো এভিয়েশনের নামে ছিল। সেখানে বেক্সিমকোর নিবন্ধিত হেলিকপ্টারও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা থাকা অবস্থাতেই শেখ বশির উদ্দিন বিমানের চেয়ারম্যান হওয়ায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ থেকে হেলিকপ্টার ব্যবসার লাইসেন্স পেতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।