ঢাকাFriday , 30 December 2022
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতের বন্দর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সেই জাহাজের পণ্য আনা হবে!

Link Copied!

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা একটি জাহাজকে গ্রহণে ঢাকাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে মস্কো। ১০ দিন ধরে স্পার্টা-৩ নামের রাশিয়ান জাহাজটি গভীর সমুদ্রে (আন্তর্জাতিক জলসীমায়) অপেক্ষমাণ। এটি মোংলা পোর্টে নোঙর করতে চায়। জাহাজটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মালামাল নিয়ে এসেছে। সেগুনবাগিচা জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রাশিয়ার ওই জাহাজকে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। এ অবস্থায় জাহাজটিকে গ্রহণ না করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নষ্টের হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। অবশ্য হুমকি সংক্রান্ত রাশিয়ার পত্র (নোট ভারবাল) পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় এবং কোনো অবস্থাতেই যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা (যদিও নাম ও কালার বদল করা হয়েছে) জাহাজটিকে বাংলাদেশ গ্রহণ করছে না, তা জানিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ান দূতাবাসের পাল্টাপাল্টির (টুইট-পাল্টা টুইট) মধ্যেই মোংলা পোর্ট অভিমুখে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রাশিয়ান জাহাজ আসার খবর দেয় ওয়াশিংটন। গত ২০শে ডিসেম্বর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এ সংক্রান্ত বার্তায় নড়েচড়ে বসে সরকার। শীর্ষ মহলে খবরটি পাঠানো হলে চটজলদি জাহাজটি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি মস্কো।

তারা তৎক্ষণাৎ তা গ্রহণে চাপ তৈরি করে। সঙ্গে বিরক্তিও প্রকাশ করে। কিন্তু তাতে ঢাকার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন না আসায় সম্পর্ক নষ্টের হুমকি দিয়ে নোট পাঠায় মস্কো। এ অবস্থায় গত ২২শে ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মন্টিটস্কিকে। মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন। আনক্লজ বিল্ডিংস্থ মেরিটাইম সচিবের দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রাশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল অ্যান্ড ইস্ট ইউরোপ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস বদিরুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন। ২৩শে ডিসেম্বর মানবজমিনে রুশ রাষ্ট্রদূতের তলব বিষয়ক রিপোর্ট প্রকাশ পায়। বুধবার রাতে এ নিয়ে আলাপে জানানো হয়, ২২শে ডিসেম্বর রাশিয়ান জাহাজকে ঢুকতে দিতে হুমকি দিয়ে নোট পাঠায় মস্কো। কালবিলম্ব না করে (ওই দিনই) রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া বার্তা দেয় বাংলাদেশ।
একইসঙ্গে রাষ্ট্রদূতের কাছে ঢাকা জানতে চায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা আইএমও ৯৫৩৮৮৯২ সনদধারী স্পার্টা-৩ জাহাজটির নাম ও কালার বদল করার বিষয়টি কেন বাংলাদেশের কাছে গোপন করলো রাশিয়া। জাহাজটি গ্রহণ করলে সমূহ বিপদের যে ঝুঁকি রয়েছে সেটা জানা সত্ত্বেও কেন মস্কো তা বাংলাদেশ অভিমুখে প্রেরণ করলো? এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মস্কো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। স্মরণ করা যায়, গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন প্রশ্নে বিবৃতি, টুইট ও পাল্টা টুইট করে বাংলাদেশ প্রশ্নে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকা অবশ্য তাদের উভয়কে এসব কর্মে নিরুৎসাহিত করছে। পূর্ব বা পশ্চিম কোনো দেশের হস্তক্ষেপ নয়, নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে চাইছে বাংলাদেশ।

আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার আওতায় জাহাজটির বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে-নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি মেগা প্রকল্প। সেটাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার আওতায় জাহাজটি আছে-বিষয়টি জানা ছিল না। এখন যেহেতু নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানা হয়েছে- সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিগগিরই ভারতের একটি ক্রজ বাংলাদেশে আসছে। এ বিষয়ে কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ কয়েকটি ব্যাপারে কিছুটা চ্যালেঞ্জ আছে। এসব চ্যালেঞ্জ ও ক্রজ আগমন উপলক্ষ্যে ভারতের একটি টিম চাঁদপুর, বাগেরহাট ও মোংলা পরিদর্শন করবে। সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, কোভিডের পর স্থলবন্দরগুলো ফুলসুইংয়ে শুরু হয়নি। অনেক জায়গায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভিসা ইস্যু করছে না; সমস্যা হচ্ছে। সেসব বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা পদক্ষেপ নিবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত ভালো আছে। অসুবিধা নাই। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। উদ্বিঘ্ন হওয়ার কিছু নাই। এগুলো আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের কোনো বিষয় না। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দু’দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর আছে। স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণে বিজিবি বিএসএফ-এর মধ্যে সমস্যা হয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা যাতে আর না হয় সেজন্য দু’দেশের সরকার কাজ করছে। অনেকগুলো স্থলবন্দর অপারেশনের অপেক্ষায় আছে। এরমধ্যে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরও রয়েছে। রামগড় স্থলবন্দর উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট সামারি পাঠানো হয়েছে। জানুয়ারিতে চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী এপ্রিল বা মে’তে পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনাল চালু করা হবে। আন্ধারমানিক নদীতে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ফেরি চলবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।