ঢাকাশনিবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেখ হাসিনার ঝটিকা প্রত্যাবর্তন কি সুফল বয়ে আনবে?

অপরপজিত বাংলা
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৪ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা দরকার আছে। শিক্ষা দরকার আছে আওয়ামী লীগেরও। এই শিক্ষাটি দিতে পারবে ড. ইউনূসের বৈধ/অবৈধ অন্তর্তকালীন সরকার। আওয়ামীলীগে জমা হওয়া পঁচাগলা নেতারা যেমন বাদ যেতে হবে, তেমনি বাংলাদেশের জনগণকেও শুদ্ধ হতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে দুর্নীতি করা যাবে না। ধর্মব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল হওয়া যাবে না। কাজ করেই ভাত খেতে হবে, চুরি-ডাকাতি করে নয়। জনগণ মুদ্রার একপিঠ দেখেছে, অপর পিঠটাও দেখুক কিছুদিন। সরকারের সন্ত্রাস দমনের সময় যারা জঙ্গীদের জন্য মানবতার কান্না করেছে, তারা নিজেরাই এখন জঙ্গীদের হাতে নিগৃহীত হয়ে কিছুদিন কান্নাকাটি করুক। শুদ্ধি তো এমনি এমনি আসে না, প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমেই আসে।

মাত্র ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করে ভারত যে ভুল করেছিলো, সে ভুল এখন আর করা যাবে না। ভারত আজ উঠতে বসতে বাংলাদেশিদের গালি খায়। আওয়ামী লীগ এখনই ফিরলে তারাও গালি খাবে। ইউনূস, আর্মি, জামায়াত ও জঙ্গীদের হাতে ধোলাই খেয়ে বাংলাদেশি বাঙালি একটু শুদ্ধ হোক। অন্ধকার হোক দেশ। রাত্রির রূপটা দেখুক সবাই। বুঝুক সবাই। অনুভব করুক, মর্মে মর্মে। তখন না হয় আলোর আশা আবার করা যাবে।

শেখ হাসিনার অপরাধের মাত্রা কতোটুকু?
আওয়ামী লীগে নেতাদের মধ্যে যেমন ভালো মানুষ আছে, তেমনি দাগী অপরাধীও আছে। কিন্তু এই নেতারা আলোচনায় আসে খুবই কম। জামায়াতসহ জঙ্গী ও সুশীলরা সবচেয়ে বড়ো শত্রু হিসেবে শেখ হাসিনার নামই জপে। মূল কারণ, লীগের অপরাধী নেতাদেরকে কেনা গেলেও শেখ হাসিনাকে কেনা যায় না। শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করা যায়নি। আমেরিকার ভয় দেখিয়ে কাবু করা যায়নি। জাতিসংঘের ফোন দিয়েও যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাতে পারেনি।
সরকারপ্রধান এবং দলীয় প্রধান হিসেবে তারও ব্যর্থতা আছে; কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত ব্যর্থতাগুলোর সাথে শেখ হাসিনাকে জড়ানো খুবই খুবই কঠিন কাজ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক জরিপেই দেখা গেছে আওয়ামী লীগ সরকারকে মাত্র ৩০-৩৫% লোক পছন্দ করলেও শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে ৭০% এর বেশি মানুষ।

শেখ হাসিনার নামে অবৈধ ইউনূস সরকার একের পর এক খুনের মামলা দিচ্ছে। কিন্তু, মামলাগুলো যে হাস্যকর তা ইউনূস সরকারের ঘরের লোক সারাহ হোসেনের বক্তব্যেই পরিষ্কার। শেখ হাসিনা খুনি নন। এজন্যই মাসের ওপরে চলা ছাত্র আন্দোলনে মাত্র শ’দুয়েকের মতো মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের অধিকাংশই আবার এমন অস্ত্রে যা পুলিশ ব্যবহার করেন না। পুলিশের ওপর কঠোর নির্দেশ ছিলো জীবনবিধংসী অস্ত্র ব্যবহার না করার। বিজিবি-আর্মির প্রতিও নির্দেশ ছিলো গুলি না ছোঁড়ার। শুধু এবারের আন্দোলনই নয়, গত ১৫ বছরের সব আন্দোলনেই একই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনূস সরকারও জানেন, তাকে খুনি বানানো যাবে না। তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যাপারেও তাদের কোনো প্রচেষ্টা নেই, আগ্রহও নেই। তারা শুধু শেখ হাসিনাকে চুপ করাতে চায়।
শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজও নন। এখন পর্যন্ত যতোগুলো নিউজ দেখেছি, সেখানে শেখ হাসিনার পিওন ৪০০ কোটির মালিক, শেখ পরিবার হাজার হাজার কোটি নিয়ে গেছে, এসব লেখা হলেও শেখ হাসিনা নিজে কতো টাকা কোথায় দুর্নীতি করেছেন, সে বিষয়ে ইউনূস সরকারও কিছু বলতে পারছেন না। শেখ হাসিনার বাসস্থান লুটকারীরাও সেখানে মাছ আর রাজহাঁস পেলেও সিন্দুকে পেয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টাকা, হাজার কোটি ডলার নয়। শেখ হাসিনার কোনো সুইস ব্যাঙ্কেও কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।

তবে শেখ হাসিনা দেশের দুর্নীতি দমনের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তিনি সরকারী চাকুরেদের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে ভেবেছিলেন বেশি টাকা বেতন পেলে তারা ঘুষ খাবে না। কিন্তু তিনি ভুল ভেবেছিলেন। দুর্নীতির বিষয়ে একটা পর্যায়ে তিনি দেখেও না দেখার ভান করেছেন। বাংলাদেশের মতো দুর্নীতিযুক্ত দেশে কাজটি কঠিন। খালেদা জিয়ার আমলে চ্যাম্পিয়ন থেকে আমরা টপ টেনের বাইরে গেলেও সেটি অবশ্যই যথেষ্ট ছিলো না। আমাদের বিবেচনায়, তিনি এ বিষয়ে আরো ভালো কাজ করতে পারতেন। বিশেষ করে কাছের লোকজন বলে পরিচিতদের নিবৃত্ত করার জন্য তার আরো সক্রিয় হওয়া উচিত ছিলো। তিনি তাতে কতোটুকু সফল হতে পারতেন, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বিশেষ করে বেনজিরদের মতো টপ লেভেলের কয়েকজনকে ধরা শুরুর ২ মাসের মধ্যেই তো সরকারই টিকতে পারলো না।
শেখ হাসিনা কি ভোটের অধিকার কেঁড়ে নিয়েছেন? এক কথায় উত্তর, না। গত ১৫ বছরে ভোটখরার জন্য তারেক জিয়া দায়ী। বিএনপির নেতারা নির্বাচনে আসতে চাইলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশান্তর হওয়া তারেক জিয়ার কারণে নির্বাচনে আসেনি বারবার। বিএনপির নিজস্ব ভোটার ২৫%। তারা নির্বাচনে না এলে প্রতিযোগিতা থাকে না। প্রতিযোগিতা না থাকলে বাকি ভোটাররাও ভোট দিতে উৎসাহ পায় না। তবে আওয়ামী লীগ দলের মধ্যে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা”ও” দায়ী। এখানে অনেকগুলো পক্ষ আছে, যাদের কাছে পদবাণিজ্য হয়েছে, নমিনেশন কেনাবেচা হয়েছে। শেখ হাসিনা সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করেছেন। দলপ্রধান হিসেবে দলকে ধংস করার এ দায় তিনি এড়াতে পারেন না। সংসদ নির্বাচন বাদে বাকি নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে না করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সেটি অনেক সহায়ক হতো। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে যেতে বাধ্য হতেন।

“সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়” শেখ হাসিনার এই পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। এটি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, দেশকে স্থিতিশীল রেখেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে যেখানে মোড়লদের টেমপ্লেটের বাইরে যাওয়া কঠিন, সেখানে একটু ব্যতিক্রম হিসেবে মোড়লদের পক্ষে গেলে খুব বেশি ক্ষতি হতো না। দেশ দীর্ঘমেয়াদে আফগানিস্তান-সিরিয়া হওয়ার চেয়ে সেন্টমার্টিনে একটি আমেরিকান ঘাঁটি করতে দেয়া বেশি বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত হতো। দেশপ্রেমকে সবসময় সবার ঊর্ধে রেখে হয়তো রাজনীতি চলে না।

শেখ হাসিনার একটি অন্যতম খারাপ স্ট্রাটেজি ছিলো হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষমতায়ন করা। স্বল্পমেয়াদে তাদেরকে বিভিন্নরকম অন্যায় সুবিধা দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া এড়ানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আওয়ামী লীগের ক্ষতি করেছে। দলপ্রধান হিসেবে এ দায় অবশ্যই শেখ হাসিনার।
তিনি দলের নেতা নির্বাচনেও ভুল করেছেন। শুধু ভুল না, অন্যায়ও। ওবায়দুল কাদেরের মতো মাইনাস টুর কুশীলবকে এতো দীর্ঘসময় সাধারণ সম্পাদক করে রাখতে উনি রাজনীতির কি হিসাব কষেছেন, নাকি বাধ্য হয়েছেন, সেটি বুঝা কঠিন। তবে ওবায়দুল কাদের দলকে তৃণমূল পর্যন্ত ধংস করেছেন। তার নিয়োগকর্তা হিসেবে শেখ হাসিনা দায় এড়াতে পারেন না।

ভারতে পালিয়ে গিয়ে তিনি কি কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন? পালিয়ে না গেলে কি ঘটতো, সেটি আগে চিন্তা করেন। দেশ তখন কার্যত আর্মির দখলে। জামায়াতের বিপ্লবীদের সাথে মিশে আর্মি পুলিশবাহিনীকেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা গণভবনে থাকলে কী হতো? তাকে নির্মমভাবে খুন করা হতো। অনেকে ভাবছেন, তাকে গ্রেফতার করে বিচার করা হতো। তিনি জেল খাটতে পারতেন। তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। দীপুমণির মতো লোককে যেখানে আর্মি-পুলিশ হেফাজতে আদালতে পেটানো হয়েছে, সেখানে ওই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে খুন করার ছাড়া অন্য কিছুই ঘটতো না। শেখ হাসিনা জেল-জুলুম-বিচারে তো ভয় পান না। অতীত সাক্ষী, তিনি মৃত্যুকেও ভয় পান না। পরিবারের অনুরোধে দেশ ছেড়েছেন। তিনি প্রাণে বাঁচায় দেশের কি ভালো হয়েছে? নাকি বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও খুন হলে দেশের ভালো হতো? এ প্রশ্নটি এখন ভাবতে থাকুন। তবে আপনার উত্তর যা-ই হোক, অদূর ভবিষ্যতই বলে দিবে, জীবিত শেখ হাসিনা কেন বাংলাদেশের জন্য এখনো দরকারী।
লালবিপ্লবীদের একটু একটু আহাজারী তো এখনই শুনতে পাচ্ছেন? নাকি পাচ্ছেন না?

আওয়ামী লীগের ঝটিকা প্রত্যাবর্তন? না!
আর্মি এবং ইউনূস সরকারের সহযোগিতায় জামায়াত ও জঙ্গীগোষ্ঠীর হাতে ৫ই আগস্টের পর থেকে ক্রমাগত ঐতিহাসিক স্থাপনা ধংস, বাড়িঘর ভাঙচুর, কলকারখানায় আগুন, ধর্মীয় উপসনালয় ধ্বংস এবং নির্বিচারে হত্যা দেখে অনেক মানুষই ভাবছে এর চেয়ে তো শেখ হাসিনাই ভালো ছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই ভালো ছিলো।
এখানে আমি সেই মানুষগুলোর কথা বলছি, যারা ৫ই আগস্টে সরকার পতনকে সমর্থন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সমালোচনায় চরম সোচ্চার ছিলেন, এমন অনেককেই দেখেছি গত কয়েক সপ্তাহ বিভিন্ন মাত্রায় আজাহারি করতে, যার অর্থ “হায়! এ কী করলাম! কাদেরকে সমর্থন করলাম।” তাদের অনেকেরই বক্তব্য দেখলে মনে হবে, যেন ইউনূস সরকারকে এই মুহূর্তে বিতাড়িত করে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমি তাদের এই চটজলদি পরিবর্তিত অবস্থানের পক্ষে নই। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসালে কোনো সমস্যার সমাধানই হবে না। বরং, দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আরো বড়ো সমস্যা সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে ড. ইউনূসের বৈধ/অবৈধ সরকারকেই দরকার। কেন দরকার, তা পরিষ্কার করতেই এই লেখা।

আওয়ামী লীগের বিপক্ষে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সরব ছিলো অনেকগুলো পক্ষ:
মাইনাস টু সুশীল সমাজ (আমেরিকা),
আর্মি,
বামের বিরাট একটা অংশ,
বিএনপি(জামায়াত),
জ*ঙ্গীগোষ্ঠী,
ধর্মভিত্তিক বাকি সবগুলো রাজনৈতিক দল
এবং আওয়ামী লীগেরও একটা উল্লেখযোগ্য অংশ
এখানে আমেরিকা এবং জামায়াতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। কারণ, এরা কেউই স্বপরিচয়ে আন্দোলনে ছিলো না। আমেরিকা কূটনৈতিক কারণেই এরকম আন্দোলনে ঘোষণা দিয়ে থাকে না; কিন্তু এরকম অভ্যুত্থান তারা নানা দেশে ঘটায়। বাংলাদেশেও একই ভূমিকা পালন করেছে। আর্মির ভূমিকা কিছুটা অপ্রকাশ্য মনে হলেও একটা পর্যায়ে তারাও খুব একটা রাখঢাক করে নি। আন্দোলনকারীদের সাথে একাট্টা হয়ে তাদের একটি অংশ পুলিশের প্রতি গুলি ছুঁড়েছে। ফাঁড়িগুলোতেও পুলিশ হত্যার প্রত্যক্ষ সহযোগী আর্মি। কিন্তু জামায়াতের কেস অনেক ইন্টারেস্টিং। তারা ফান্ডিং থেকে শুরু করে পুরো আন্দোলন পেছনে থেকে পরিচালনা করলেও প্রকাশ্যে আসে নি। এমনকি বিএনপির উপরমহলও জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতো না। রাজাকার শ্লোগানের পরেও বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারে নি, এটি জামায়াতের আন্দোলন। তবে ৫ই আগস্টের পর পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায় এ আন্দোলনের তারাই মূল স্টেকহোল্ডার। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর থেকে শুরু করে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তারা ধংস করেছে একদমই কালবিলম্ব না করে। এটি একমাত্র জামায়াতেরই ট্রেডমার্ক।

জামায়াত প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে আসলে তারা কি চায়? আমার বিবেচনায়, তারা বাংলাদেশকে শাসন করতে চায় না। এর আগে বিএনপির সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে তাদের যে পরিকল্পনা ছিলো, তা কিছুটা ধীরগতিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলো। সেই পরিকল্পনার সিংহভাগে ছিলো দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তাদের কালিমালিপ্ত ইতিহাসকে মুছে ফেলা। যুদ্ধাপরাধীর বিচার না ঠেকাতে পারায় তাদের সে উদ্দেশ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। অনেকে মনে করেন, জামায়াত বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। তারাও ভুল। জামায়াত বাংলাদেশকে শাসন করতেও চায় না, পাকিস্তান বানাতেও চায় না, তারা চায় স্রেফ ধংস করতে। এজন্যই দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, যাতে বাংলাদেশ আর কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, সাথে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে ভালোবাসে না, ঘৃণা করে, এটা তারা জানে। এজন্য তারাও বাংলাদেশকে ঘৃণা করে, ধংস করতে চায়। দেশ শাসনের আকাঙ্ক্ষা থাকলে ধংস করতো না।

এখন আসি কেন আমি আওয়ামী লীগকে এই মুহূর্তে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। উপরের যে তালিকা দিলাম, তাতেই বুঝা যায় দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ আওয়ামী লীগকে অপছন্দ করতো। এমনকি আওয়ামী লীগাররাও। এই অপছন্দ অমূলক নয়। আন্দোলনের চালিকাশক্তি গুজব হলেও মানুষের ক্ষোভ ছিলো বাস্তবতা। সেই ক্ষোভের কারণ অণুসন্ধান এবং সেগুলো দূর করার আগে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর কোনো সমাধান হবে না।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।