বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ঢাকা জজ কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এ কর্মশালা সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীগণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ফলে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আইনজীবীগণকে সম্মুখে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইনজীবীদের কর্মশালায় আলোচনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও ড. আব্দুল মান্নান। সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন আইনজীবী নেতৃবৃন্দ।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ভালো মানুষ হিসেবে এবং একজন সত্যিকার মুসলমানকে জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত তওবার মধ্যে থাকতে হবে। আল্লাহর দেয়া সীমা রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষ যাতে ন্যায়বিচার পায় সেজন্য পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনজীবীদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে সবক্ষেত্রে। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে আইন অঙ্গনে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সৃজনশীল কর্মসূচি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে হবে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সমাজের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধি বাড়াতে আইনজীবীদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে আইনজীবীদের ব্যক্তি ইচ্ছা বা ভূমিকা অগ্রগণ্য। নিজ কাজের ওপর ভিত্তি করে একজন আইনজীবী সমাজের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তি হিসেবে অধিষ্ঠিত হতে পারেন। নিজ পেশাকে ইবাদত হিসেবে নিলে সেই লক্ষ্য সহজে পূরণ করা সম্ভব।
অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, ন্যায়-ইনসাফ তথা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সবখানে আজ সাধারণ মানুষ জুলুমের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাজের মজলুম মানুষকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই জীবনই শেষ জীবন নয়, মৃত্যুর পরও দীর্ঘ একটি জীবন রয়েছে। ইহকালীন সাফল্য ও পরকালীন মুক্তির স্বার্থেই ইনসাফভিত্তিক ন্যায়বিচারের কাজে সকলের মনোনিবেশ করা উচিত।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের প্রধান পরিচয় মানুষ। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছেন বলেই সে মানুষ। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষ যখন বিবেক হারিয়ে ফেলে তখন আর মানুষ থাকে না। আমাদেরকে সত্যিকার মানুষ হবার চেষ্টা করতে হবে। সেইসাথে আমরা আইনজীবী। নিজেদেরকে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ আজ এক কঠিন সময় পার করছে। দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার বলতে কিছু নেই। সর্বোপরি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী হিসেবে নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
