এরশাদের পতনের পর বিদেশে টাকা পাচার, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা হবে এমন কত গল্প পড়েছিলেন মনে আছে? একটা টাকাও কী ফেরত এসেছিল? এরশাদ একবার সুন্দরবন হোটেনে সাংবাদিকদের ইফতার পার্টির আয়োজন দেখে রেগেমেগে দলের নেতাদের বলেছিলেন, এমন কয়েকটা জাতীয় পার্টি চালালেও তার টাকা ফুরোবেনা। এরশাদ অনেক সম্পদ করেছিলেন নাজিউর রহমান মঞ্জুর নামে। সেই সব সম্পদ নিয়ে ভেগে গিয়ে নাজিউর রহমান মঞ্জু খোলেন নিজের রাজনৈতিক দোকান বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি। সেই দলের চেয়ারম্যান এখন পুত্র আন্দালিব রহমান পার্থ! নাজিউর রহমান সহ আরও অনেকে লুটপাটের পরও এরশাদের দুর্নীতির সম্পদ কিন্তু কমে নাই।
২০০৭ সালে খালেদা তারেকের হাওয়া ভবনের সরকারের পতনের পর তাদের দুর্নীতি, বিদেশে টাকা পাচারের অনেক রিপোর্ট ছেপেছিল প্রথম আলো ডেইলি স্টার। তাদের কয়টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আনা গেছে? দেশে খালেদার বিদেশে তারেক কোকোর সংসার চালানো নিয়ে কোনদিন আর্থিক সমস্যা শুনেছেন? দেশের সবচেয়ে দামি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হয়। মানি ইজ নো প্রবলেম বলে গিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।
এরশাদের জনতা টাওয়ার দুর্নীতি মামলাটি ছিল তিনকোটি টাকা তসরূপের। খালেদা জিয়ার এতিমখানা দুর্নীতি মামলার অভিযোগও তিনকোটি টাকার বেশি নয়। প্রমানপত্র শক্ত ছিল। আদালতে তা প্রমান করা গেছে। এরশাদ খালেদা কেউ জেল এড়াতে পারেননি। এসব লেখার কারন টাকার অংক যখন ছোট হয়, ব্যাংকে লেনদেনের প্রমান থাকে তখনই তা আদালতে প্রমান করা যায়।
হাজার হাজার কোটি টাকা যা বিদেশে পাচার হয় তা ব্যাংকিং চ্যানেলে যায়না বলে তা প্রমান করা কঠিন। কারন হুন্ডির হিসাব বাংলাদেশ বা বিদেশে কোথাও হাতনাতে ধরা না পড়লে তা প্রমান করা যায়না। বাংলাদেশের অনেক বড় অংকের টাকা পাচার হয় এলসির মাধ্যমে। এখান থেকে বেশি দরকার দেখিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বের করে নেয়া হয়। ওখান থেকে তা আর ফেরত আসেনা। দুর্নীতিবাজ সব পেশাতেই আছেন। তারাই এসবের বৈধতা সাজান।
কাজেই শুধু রাজনীতিকদের ঢালাও দোষ দিয়ে দুর্নীতি টাকা পাচার বন্ধ করা যাবেনা। আমলা সহ সংশ্লিষ্ট লোকজন রং পাল্টে তারা বহাল তবিয়তে দেশেই আছেন। তাদের কেউ কেউ এরমাঝে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের টাকাপয়সা বাইরে নিয়ে যাবার কাজ কর্ম শুরু করেছেন। কারন ফখরুদ্দিন মইন উদ্দিনদেরও বিদেশে থাকতে টাকার দরকার হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।