ঢাকামঙ্গলবার , ২ জুন ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে ক্ষোভ রুমিন ফারহানার, প্রশ্ন তুললেন রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২, ২০২৬ ১:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের বিরোধিতার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে রাষ্ট্র শিশু ধর্ষণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক লুট বন্ধ করতে ব্যর্থ, সেই রাষ্ট্র একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করতে কেন এত সক্রিয়।

সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। বাংলাদেশের কোনো গণআন্দোলনকে কেউ কুক্ষিগত করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।”

তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, যে রাষ্ট্র দুর্নীতি, অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক লুট বন্ধ করতে ব্যর্থ, সেই রাষ্ট্র কেন একটি সিনেমা বন্ধ করার ক্ষেত্রে এতটা সক্রিয়?”

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশের ‘সংস্কৃতির রাজধানী’ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “এখানে কোনো সিনেমা হল নেই। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নানা বাধার মুখে পড়ে। যারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায় এবং বিশ্বে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, তারাই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে দেখার মতো একটি সিনেমা। তাহলে সেটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও মানুষ খুঁজছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সাংস্কৃতিক সহনশীলতার সংকট দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা দেখেছি মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো হয়েছে, উগ্রপন্থার উত্থান ঘটেছে। অথচ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ছিল ভিন্ন। এখানে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্রচর্চা সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে।”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, সরাইল উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল পাঠান, সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফতি আল জাবেদ।

গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের কথা ছিল। তবে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরোধিতা করে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হল ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করে।

পরে আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের আলোচনার পর চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়। আয়োজকরা পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে একই দিনে কসবা উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে গিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচায়ক। একই সঙ্গে কসবার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাকে তারা ‘অতিউৎসাহী আচরণ’ বলে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, জেলা খেলাঘর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সোনালী সকাল, চারণ, অক্ষর আলাপন, কবির কলম এবং আমাদের সংস্কৃতি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।