পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড। কলকাতার ধর্মতলায় এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর এসটিএফ তাদের আটক করে। তবে তিনি দাবি করেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আমাদের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। আমি এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি। দেশের স্বার্থে এখনও সংশ্লিষ্টদের নাম বলছি না।”
তার এই মন্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে শরিফ ওসমান বিন হাদির নাম।
কে ছিলেন ওসমান হাদি?
৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মুখপাত্র। ঝালকাঠির একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পরিবারের সন্তান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
জুলাই আন্দোলনের পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
হত্যাকাণ্ড ও তদন্ত
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম সামনে আসে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঘটনার পর কয়েকজন অভিযুক্ত দেশত্যাগ করেন এবং পরে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।
মমতার মন্তব্যে নতুন প্রশ্ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য এই হত্যাকাণ্ডকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাঁর দাবি সত্য হলে এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্নও সামনে আনতে পারে।
তবে মমতার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর দাবির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ পেলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।
