টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলীকে ঘিরে দুর্নীতি, উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়া এবং আন্দোলনের সময় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগের মধ্যেই এবার নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একটি সরকারি কর্মকর্তা-সংবলিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গুলির খোসার সারি সাজানো ছবি এবং অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অস্ত্রসংশ্লিষ্ট ছবি ও বার্তা
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপে কেউ কয়েকটি শটগানের গুলিখোসা সাজানো একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টের নিচে লেখা ছিল:
“গুলাগুলি আর না। শৈশবের মতো খেলা করলাম। থানায় জমা দিতে যাচ্ছি।”
এরপর আরও একটি বার্তা দেখা যায়:
“যোলো রাউন্ড।”
এই বার্তাগুলো দায়িত্বশীল দপ্তরের ভেতর অস্ত্র পরিচালনা বা সংগ্রহে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব বার্তার প্রেক্ষাপট বা সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবে সরকারি গ্রুপে এমন কনটেন্ট পাওয়া উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদন
এর আগে একটি জাতীয় দৈনিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, একই প্রকৌশলী:
• বিদেশে পোস্টিংয়ের সময় অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন,
• দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন,
• এবং সাম্প্রতিক কোটা আন্দোলনের সময়ে সহিংসতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, উগ্র মতাদর্শধারী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তোলা হয়, যদিও এ তথ্য যাচাইযোগ্য নয়।
যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
প্রতিবেদন বলছে, অভিযোগকারীরা অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করেও সাড়া পাননি। তার ইমেইলেও কোনো উত্তর মেলেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত করায় অতিরিক্ত মন্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোড়ন
এই নতুন ছবি ও বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে:
• সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কেউ কীভাবে অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট খেলাধুলার মতো মন্তব্য করেন?
• এসব সামগ্রী কোথা থেকে আসে?
• এগুলো কি অনুমোদিত?
• আন্দোলন-সংকটের সময়ে এমন আচরণ কি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়?
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগের পরিমাণ যতই হোক, স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া বিষয়টি থামবে না। তারা মনে করছেন, একটি সংবেদনশীল ও নিরাপত্তাজনিত দপ্তরে দায়িত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত যাচাই করা অপরিহার্য।
