ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
  1. অনান্য
  2. অপরাধ ও আইন
  3. অভিবাসীদের নির্মম জীবন
  4. অর্থনীতি
  5. আত্মসাৎ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. উদ্যোক্তা
  9. এশিয়া
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. গল্প ক‌বিতা
  15. চট্টগ্রাম বিভাগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধানমণ্ডি বত্রিশে রাষ্ট্রীয় মদদে মব সন্ত্রাস ও গ্রেফতারের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ:

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঐতিহাসিক ধানমণ্ডি বত্রিশে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষদের ওপর রাষ্ট্রীয় মদদে মব সন্ত্রাস, নারীদের হেনস্তা ও বিনা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি মব সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (১৬ আগস্ট, রবিবার) এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে যে, “১৫ আগস্ট—বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু একটি রাষ্ট্রের জাতির পিতা ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে কাউকে হেনস্তা করা, অপমান করা, বাধা দেওয়া কিংবা দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের সংস্কৃতি হতে পারে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—কেউ বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাবেন কি না, সেটি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। কিন্তু যিনি শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁর সেই অধিকারকেও সম্মান করতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি শুধু নিজের মত প্রকাশের অধিকার হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত স্বাধীনতা নয়। প্রকৃত স্বাধীনতা হলো—আমি যে মতকে সমর্থন করি না, অন্য একজন সেই মত প্রকাশ করলেও তার নিরাপত্তা ও অধিকারকে সম্মান করা। আজ যদি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো অপরাধ হয়ে যায়, কাল অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আজ যদি একটি মতের মানুষকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা করা হয়, আগামীকাল ভিন্ন মতের মানুষও একই মবের শিকার হতে পারে। মব সন্ত্রাস কখনো ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। মব সন্ত্রাস দিয়ে একটি দেশের জন্মের ইতিহাস ও সেই রাষ্ট্রের জন্মদাতা জাতির পিতাকে মুছে ফেলা যায় না। মতাদর্শকে দমন করা যায় না ভয় দেখিয়ে। শ্রদ্ধাকে নিষিদ্ধ করা যায় না হুমকি দিয়ে। জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানানোর অধিকার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আজ হুমকির মুখে। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসর জামাত-শিবির-এনসিপি কর্তৃক একের পর এক সংঘটিত মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে রাষ্ট্র তাদের নীরব সমর্থন প্রমাণ করেছে। দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা বলতে এখন কিছু নেই। একজন মানুষ যখন নিজের দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভয় পাবে, তখন সেই বাংলাদেশ কখনো প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হতে পারে না। সারাদেশে এখন মব সন্ত্রাস ও লুটপাটের রাজত্ব চলছে। কোন শ্রেণীর পেশার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। জুলাই জঙ্গি আন্দোলন নামক একটি রাষ্ট্রদ্রোহী জঙ্গি আন্দোলনকে সুকৌশলে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করে পরিকল্পিত ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে রাষ্ট্রীয় মদদে সারাদেশে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী। রাষ্ট্রীয় মদদে সারাদেশে হাজার হাজার সংখ্যালঘুর সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর নির্মম নির্যাতন, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাকিস্তানের অর্থায়নে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সংগঠনগুলো নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ চালিয়ে পুরো দেশটাকে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের নিরাপদ অভয়ারণ্য পরিণত করেছে যা দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সামনে একটি ব্যর্থ ও জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই অবৈধ, অযোগ্য, অথর্ব ও ব্যর্থ সরকার দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সারাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষদের ওপর নির্মম হত্যা, নির্যাতন, একের পর এক মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে যা দেশের সংবিধান ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিশি রাতে ভোট জালিয়াতির একতরফা ভাগাভাগির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে একদল উশৃংখল মব সন্ত্রাসী কর্তৃক গতকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে সারাদিন ব্যাপী ঐতিহাসিক ধানমণ্ডি বত্রিশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ অসংখ্য সাধারণ নিরীহ মানুষদের ওপর নির্মমভাবে মব সন্ত্রাস, নারীদের হেনস্থা ও ব্যক্তিগত ফোন কেড়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চেক করা এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও বিনা মামলায় গ্রেফতার করার মাধ্যমে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মদদে পুলিশের সামনে এধরণের মব সন্ত্রাস, ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা ও বিনা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে এসব মব সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। অন্যথায় দেশের জনগণ নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে এসব পাকিস্তানি রাজাকার শাবক মব সন্ত্রাসীদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে বাধ্য হবে। আর নয় প্রতিবাদ, এবার হবে প্রতিরোধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে জঙ্গি ও মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দোসর জামাত-বিএনপি-এনসিপির মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোন ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়া হবে না। জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য যার যার জায়গা থেকে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তুতি নিন। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত ডাক আসবে। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসরদেরকে চূড়ান্ত ভাবে নির্মূল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। বিজয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজিতবাংলা ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন oporajitobangla24@yahoo.com ঠিকানায়।