কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকারের আমলে সাংবাদিকদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের নজির সৃষ্টি হয়েছে। তারা এসব মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান।
সংগঠনের আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, “ইউনূস আমলে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া এবং নির্যাতন বন্ধ করা। সরকার যদি সেই দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সাংবাদিকদের মুক্তি দিলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল মানববন্ধনে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউনূস সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ওপরও দমন-পীড়ন চালিয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, শারীরিক হামলা, চাকরিচ্যুতি, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলসহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
শেখ জামাল বলেন, “শাহরিয়ার কবীর, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, মঞ্জুরুল আলম পান্না, আনিস আলমগীরসহ সারাদেশে ৪৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন এখনও কারাগারে রয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, মেহেদী হাসান, শাকিল হোসেন, তাহির জামান, এটিএম তুরাব, প্রদীপ কুমার ভৌমিক ও সোহেল আখঞ্জিসহ ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৪৪৯ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২০০-এর বেশি সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি, সাংবাদিক হত্যার বিচার, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল, ডিইউজে ও বিএফইউজে অফিস খুলে দেওয়া, প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পুনর্বহাল, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শেখ জামালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জে এম রউফ, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ সোহেলী চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক আসাদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেলসহ আরও অনেকে।
