বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কি ইসলামায়নের প্রক্রিয়া চলছে? ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে জিয়াউল হক যা করেছিলেন, বাংলাদেশেও কি এখন তেমন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে?
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক শিখা অনির্বাণের চিরন্তন শিখা সাময়িকভাবে নিভিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ৭:০০টা থেকে শিখা অনির্বাণের চিরন্তন শিখা নিভিয়ে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, GE Army South-এর নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে MES South-এর এসডিও জনাব জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিখাটি নিভিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টির কারণ সম্পর্কে কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই অবগত।
শিখা অনির্বাণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ফলে এর চিরন্তন শিখা নিভিয়ে রাখার ঘটনাকে অনেকেই জাতীয় স্মৃতি ও ঐতিহাসিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্লেষণে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আদর্শিক বা সাংস্কৃতিক চরিত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটছে কি না। এমনকি কেউ কেউ পাকিস্তানে ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তৎকালীন শাসক জিয়াউল হকের আমলে সেনাবাহিনীতে সংঘটিত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনাও টানছেন।
তবে এ ধরনের তুলনা ও বিশ্লেষণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে এমন কোনো সরকারি তথ্য নেই, যা থেকে এ ধরনের উপসংহার নিশ্চিতভাবে টানা যায়।
এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত শিখা অনির্বাণের চিরন্তন শিখা সাময়িকভাবে নিভিয়ে রাখার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
